kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

বিধি ভেঙে দেড় লাখ টাকা ঈদ বোনাস নিলেন রেজিস্ট্রার

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কোনোভাবে উৎসব ভাতা পাবেন না। এটা হয়ে থাকলে তা বেআইনি,মো. শাহ আলম, অর্থ পরিচালক, ইউজিসি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৩০ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বকেয়াসহ ঈদের উৎসব ভাতা হিসেবে এক লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা রেজিস্ট্রার মো. আলমগীর চৌধুরীকে দিয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত রবিবার জনতা ব্যাংক, লালবাগ বাজার শাখায় পাঠানো উৎসব ভাতার ইনভয়েস (চালান) থেকে এই তথ্য জানা গেছে। এর মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে।

ইনভয়েসে স্বাক্ষর করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ট্রেজারার মো. হাসিবুর রশীদ।

বিজ্ঞাপন

রেজিস্ট্রারকে বকেয়াসহ উক্ত ভাতা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব দপ্তরের বেতন, বিল ও পেনশন শাখা।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সার্চ কমিটির সুপারিশে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৮৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৫ সালে অবসরে যাওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর চৌধুরীকে রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ২৪ জানুয়ারি উপাচার্য স্বাক্ষরিত রেজিস্ট্রারের নিয়োগপত্রে ২ নম্বর শর্তে উল্লেখ রয়েছে, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী গ্রেড-৩-এর সর্বশেষ ধাপ ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা মূল বেতন এবং বাড়িভাড়া ৪০ শতাংশ, মোবাইল বিল এক হাজার ৫০০ টাকাসহ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালে মাসে মোট এক লাখ পাঁচ হাজার ৬০৬ টাকা পাবেন। এ ছাড়া অন্য কোনো ভাতা পাবেন না। গত ৬ ফেব্রুয়ারি যোগ দেন আলমগীর।

গত রবিবার ব্যাংকে পাঠানো উৎসব ভাতার অ্যাডভাইসে দেখা যায়, আলমগীরকে ঈদুল ফিতরের বকেয়া ভাতাসহ দুটি ভাতা বাবদ এক লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। অথচ কোনো চাকরিজীবীকে বকেয়া ভাতা দেওয়ার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার আলমগীর চৌধুরীর সঙ্গে কথা বললে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থ পরিচালক মো. শাহ আলম স্বাক্ষরিত গত ২৪ মের পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত বিশ্ববিদ্যালয়/সরকারি চাকরি হতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক/কর্মকর্তারা অবসরগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বার্ষিক উৎসব ও নববর্ষ ভাতা পাবেন। এ ক্ষেত্রে নিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে উৎসব ও নববর্ষ ভাতা দেওয়ার সুযোগ নেই। যদি অবসর গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান থেকে উৎসব ও নববর্ষ ভাতা না নেন, সেই ক্ষেত্রে আগের প্রতিষ্ঠানে প্রাপ্ত বার্ষিক উৎসব ও নববর্ষ ভাতার সমপরিমাণ অর্থ ভাতা হিসেবে পাবেন। এই নির্দেশনা মোতাবেক কোনোভাবে তিনি এক লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা নিতে পারেন না।

তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব নিয়ামক দপ্তরের গত ১৫ মার্চের এক অফিস আদেশে দেখা যায়, আলমগীর পেনশন হিসেবে চিকিৎসা ভাতা দুই হাজার ৫০০, নববর্ষ ভাতা পাঁচ হাজার ৭৬১ ও দুটি উৎসব ভাতা ২৮ হাজার ৮০৭ টাকা হারে পেয়েছেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইউজিসির অর্থ পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, ‘চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কোনোভাবে উৎসব ভাতা পাবেন না। এটা হয়ে থাকলে তা বেআইনি এবং বড় ধরনের অর্থিক অনিয়ম। ’

উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ এর আগে চুক্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থাকা মোস্তফা কামালের উৎসব ভাতা বন্ধ করেছিলেন। এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। এর পর তাঁর দপ্তরে গেলে (গত মঙ্গলবার) তিনি দেখা করতে পারবেন না বলে জানান।

 

 



সাতদিনের সেরা