kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

চার শিশুসহ পাঁচজনকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

ঘটনাস্থল চট্টগ্রাম, পাবনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম ও রাজবাড়ী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। গত সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পাবনার চাটমোহরে এক স্কুলছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনায় গত সোমবার বিকেলে ধর্ষণের মামলা করেছে ভুক্তভোগী। কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক গৃহবধূ এবং রাজবাড়ী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

উলিপুরে অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান।

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার বদরুল ইসলাম (৫০) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বালিকার মোড় এলাকার মামুন সাহেবের কলোনির একটি বাসায় বাস করেন। ভুক্তভোগী শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, শিশুটি নার্সারিতে পড়ে। গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার পর শিশুটিকে তার মা বাসায় রেখে কর্মস্থলে যান। এ সময় বাসায় আর কেউ না থাকার সুযোগে শিশুটিকে খাবার খাওয়ানোর কথা বলে বদরুল তাঁর বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা থানায় মামলা করেন।

চাটমোহরে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নে। ভুক্তভোগী মেয়েটি মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। অভিযুক্ত তরুণের (১৮) বাড়ি একই ইউনিয়নের বালুদিয়ার গ্রামে। সে কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে।

ভুক্তভোগী ছাত্রী জানায়, প্রায় এক বছর আগে একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে ওই তরুণের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তখন সে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে ওই তরুণী প্রত্যাখ্যান করে। পরে ওই তরুণ তাকে অনেক ভালোবাসে এবং বিয়ে করবে বলে জানায়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের ও শারীরিক সম্পর্ক হয়। এতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। গত সোমবার মেয়েটির শারীরিক অবস্থা দেখে তার পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। বর্তমানে সে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। কিন্তু তার ‘প্রেমিক’ তাকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না। এ জন্য ভুক্তভোগী ধর্ষণ মামলা করেছে।

চাটমোহর থানার ওসি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

উলিপুরে গত ৯ জুন সকালের ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ গত সোমবার রাতে থানায় মামলা করেছেন। আসামি আতাউর রহমান আতা উপজেলার থেতরাই ইউপির চেয়ারম্যান। তাঁর বাড়ি উপজেলার কিশোরপুর গ্রামে।  

উলিপুর থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

রাজবাড়ীতে গত ২০ জুন দুপুরে চকোলেট খাওয়ানোর প্রলোভন ও মোবাইল ফোনে অশ্লীল ছবি দেখিয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তের নাম মিন্টু বিশ্বাস (৩২)। এই অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ছাত্রীটির মা রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন। মিন্টু বিশ্বাস রাজবাড়ী সদর উপজেলার ঘুঘুসাইল গ্রামের আইনউদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে ও কৃষি শ্রমিক।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজবাড়ী থানার এসআই আব্দুল কাদের বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেন।

শিশুর পরিবার ও থানা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের মুহাব্বত আলী নামের এক যুবক। পরে শিশুটি চিৎকার করলে মুহাব্বত পালিয়ে যান।

বিজয়নগর থানার ওসি মির্জা মোহাম্মদ হাসান বলেন, পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম এবং রাজবাড়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) ও চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি]



সাতদিনের সেরা