kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

দোলাচলে চা বিক্রেতা নাজিমুদ্দিনের ভাগ্য

মানিকগঞ্জ (আঞ্চলিক) প্রতিনিধি   

২৯ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দোলাচলে চা বিক্রেতা নাজিমুদ্দিনের ভাগ্য

নাজিমুদ্দিন

সত্তরোর্ধ্ব নাজিমুদ্দিন সকাল হলেই ফ্লাস্কে চা নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে। কখনো এ ঘাট, কখনো বা ও ঘাট, এভাবে তিনি চা বিক্রি করতেন যাত্রীদের কাছে। সঙ্গে টোস্ট বিস্কুট ও সিগারেটও বিক্রি করতেন। সারা দিনে খরচ বাদে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা লাভ হতো।

বিজ্ঞাপন

যানজট হলে লাভ আরেকটু বেশি হতো। ভালোই চলছিল তাঁর সংসার।

গত রবিবার পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার পর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহন ও যাত্রীরা পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে খুব বেশি আসছে না। মাঝেমধ্যে অল্পসংখ্যক গাড়ি এলেও নৌ রুটে ফেরিগুলো গাড়ির অপেক্ষায় থাকছে। নাজিমুদ্দিনের চা বিক্রি কমে গেছে। আয়ও অনেক কমে গেছে। কিভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে বৃদ্ধ বয়সে খুব দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নাজিমুদ্দিন।

কালের কণ্ঠের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ কথাগুলো বলেন নাজিমুদ্দিন। তিনি জানান, তাঁর বাড়ি পাটুরিয়া ৫ নম্বর ঘাটের কাছে। এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে তাঁর সংসার। এখন বয়সের কারণে অন্য কোনো কাজ করতে পারেন না তিনি। তাই বাড়ি থেকে সকালে চা বানিয়ে ফ্লাস্কে করে ঘাট এলাকায় ফেরি করে বিক্রি করেন। পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার পর দুই দিনে মাত্র ৪০০ টাকার চা বিক্রি করেছেন। এখন লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে কিভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই তাঁর।  

নাজিমুদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরো বলেন, ‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।   ফলে যাতায়াতব্যবস্থারও উন্নয়ন হচ্ছে। পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করছে। অনেক ভালো কথা। কিন্তু আমরা এখন কী করে খাব? সরকার যদি আমাদের আর্থিকভাবে পুনর্বাসন করত, তাহলে আমরা চলতে পারতাম। ’ শুধু নাজিমুদ্দিন নন, পাটুরিয়া ঘাটের অন্তত তিন শতাধিক হকার এবং ২০টির মতো হোটেল মালিকেরও অবস্থা হয়েছে অনেকটা একই রকম।

ট্রলারে মোটরসাইকেল পারাপার

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, গতকালও দক্ষিণের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেকেই মোটরসাইকেল নিয়ে পদ্মা সেতু পারাপার হতে আসে। তবে জাজিরা টোল প্লাজা থেকে সবাইকে সরিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। মাঝিরকান্দি ঘাটে একটি ফেরি চালু থাকায় চালকরা ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে মোটরসাইকেল পারাপার করেন।



সাতদিনের সেরা