kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

হয়রানির অভিযোগ অন্য ব্যবসায়ীদের

নরসিংদীতে ব্যবসায়ী হত্যা

নরসিংদী প্রতিনিধি   

২৯ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নরসিংদী সদর উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সুজিত সূত্রধর হত্যা মামলায় তিন ব্যবসায়ীকে আসামি করায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সুজিত হাজীপুরের বেঙ্গল এলাকার কাঠবাজারে কাঠ ও আসবাবের ব্যবসা করতেন। গত ২২ জুন রাতে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই রাতেই পুলিশ তিনজনকে আটক করে।

বিজ্ঞাপন

ওই তিনজন পুলিশের কাছে হত্যার কারণ ও ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। গত ২৪ জুন নিহতের ছেলে সুজন সূত্রধর ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজানা চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুফ খান (৫৫), তাঁর ছোট ভাই মনিরুজ্জামান খান (৪৫), স্থানীয় ইউপি সদস্য বদর উদ্দিন সরকার (৬০), টি হোসাইন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাওসার মাহবুব (৩৫), তাঁর চাচাতো ভাই ফেরদৌস সালাউদ্দিন (৩৫) ও তৌহিদ আকরাম (৩০), হাজীপুর এলাকার তানভীর সরকার (৩০), রাকিব সরকার (৩২), মামুন মোল্লা (৩৮), দেলোয়ার হোসেন (৩২), তারেক মিয়া (২৫), আকবর মিয়া (২৫), আজমল সরকার (৫০), বুদিয়ামারা এলাকার মো. মাসুম (২৬), শিমুল মাহমুদ (২২) ও নবীপুর এলাকার সোহাগ মিয়া (২৩)।

এর মধ্যে পুলিশ বার্নিশ মিস্ত্রি মাসুম, শিমুল মাহমুদ ও সোহাগ মিয়াকে আটক করেছে। তাঁরা তিনজনই হাজীপুরের ওই কাঠবাজার এলাকায় বিভিন্ন আসবাবের দোকানে বার্নিশ মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশ জানায়, সুজিতের পাশাপাশি আসবারের দোকান চালান তাঁর ছেলে সুজন। তাঁদের দোকানে দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে বার্নিশের কাজ করেন মাসুম। হাজিরার এক হাজার ৫০০ টাকা বকেয়া নিয়ে মাসুমকে হয়রানি করেছিলেন সুজন। ওই পাওনা টাকা নিয়ে বিতণ্ডায় এক পর্যায়ে সুজন বার্নিশ মিস্ত্রি মাসুমকে থাপ্পড় মারেন। এ নিয়ে সুজিতের কাছে বিচার দেন মাসুম। তিনিও কিছু করেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত বুধবার রাতে মাসুমের নেতৃত্বে শিমুল মাহমুদ ও সোহাগসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল গিয়ে সুজিত ও সুজনের সঙ্গে তর্কে জড়ায়। এরই এক পর্যায়ে মাসুম ও তাঁর লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুজিতকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তিনি মারা যান।

টি হোসাইন গ্রুপের চেয়ারম্যান আবরার উদ্দিন আহমেদ মিনু সাংবাদিকদের বলেন, ‘সুজিত সূত্রধরের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি আমাদের মার্কেটে। তিনি মূলত আমাদের ভাড়াটিয়া। আমাদের মামলার আসামি করা খুবই দুঃখজনক। শুধু হয়রানির উদ্দেশ্যেই আমার ভাতিজাদের আসামি করা হয়েছে। ’

তবে মামলার বাদী সুজন সূত্রধর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশ মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না। এর আগেও পিন্টু চেয়ারম্যান, তাঁর ভাই মনির, সাবেক মেম্বার বদর উদ্দিনের নেতৃত্বে আমার বাবার ওপর দুবার হামলা হয়েছিল। ’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘সুজিত হত্যার মূল হোতা মাসুমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা আমাদের কাছে হত্যার কারণ ও ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছেন। তবে ছেলের ঘটনায় বাবা হত্যার শিকার হয়েছে—এতে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না তদন্ত করছি। ’



সাতদিনের সেরা