kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

রাজাপুর

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় ৪০ ধনাঢ্য

► ২০৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত নিয়ে তালিকা ► ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ ► ৩৬ জন টাকা পাবেন

ঝালকাঠি ও রাজাপুর প্রতিনিধি   

২৯ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় ৪০ ধনাঢ্য

রাজাপুর উপজেলার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় নাম থাকা মঠবাড়ী ইউপির মহিলা সদস্য তাজেদা বেগমের স্বামী বাবুল গাজীর নাপিতের হাটে ১০টি দোকান। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নে বিষখালী নদীভাঙনে ২০৩ জন ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় ৪০ বিত্তবানের নাম থাকার অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিষখালী নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে ২০১৯ সালে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। ওই কমিটি উপজেলা থেকে ২০৩ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

তালিকায় একজনের নাম একাধিকবারও রয়েছে। এ ছাড়া যাঁদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো তাঁদের নামও আছে। বর্তমানে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১৯ লাখ টাকার একটি বরাদ্দ এসেছে, যা সর্বোচ্চ ৩৬ জনকে দেওয়া যাবে।

ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তালিকায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বাদ পড়া দেলোয়ার হোসেন, জালাল, মালেক, শহীদ, জলিল ও মিনারা অভিযোগ করেন, তাঁদের প্রত্যেককে সরকারি বরাদ্দ ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বলে দুই হাজার টাকা করে ঘুষ নেন ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য তাজেদা বেগমের স্বামী মো. বাবুল গাজী। পরে টাকা বরাদ্দ বেশি জানতে পেরে তাঁদের টাকা ফেরত দেন। এর চেয়ে যাঁরা বেশি টাকা দিয়েছেন, তাঁদের নাম তালিকায় সুপারিশ করা হয়। এমনকি মো. বাবুল গাজীর নামও রয়েছে। তাঁর নাপিতের হাটে ১০টি দোকান রয়েছে।

ফারুক নামের এক ব্যক্তির দোতলা ভবন, দুই ছেলে বিদেশ থাকলেও তাঁর নাম রয়েছে।

এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও পাকা ভবনের মালিক ব্যবসায়ী দুলাল মুন্সীর নাম রয়েছে। যাচাই-বাছাই না করে তালিকা অনুমোদন দেওয়ায় এমনটা হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেন।

বিষখালী নদীভাঙনে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্যের স্বামী মো. বাবুল গাজী নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করেছেন। এই তালিকায় নিজের নামটিও সুযোগ বুঝে দিয়েছেন। অথচ যাঁরা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত তাঁদের নাম দেননি। দুই হাজার করে টাকা ঘুষ নিয়ে, তা ফেরত দিয়েছেন। যাঁরা এর চেয়ে বেশি টাকা ঘুষ দিয়েছেন, তাঁদের নাম তালিকায় আছে।

এ ব্যাপারে মঠবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো. জালাল আহম্মেদ বলেন, ‘পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। অল্প সময়ের মধ্যে তালিকা তৈরি করতে হয়েছে। তালিকায় বিত্তবানদের নাম থাকলেও তা বাতিল করে পুনরায় তালিকা তৈরি করা হবে। ’

মহিলা সদস্যের স্বামী মো. বাবুল গাজী টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘যারা আমাদের নির্বাচন করে নাই, তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে। ’

আপনার নাম তালিকায় এলো কিভাবে? এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান।

রাজাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মামুন-অর-রশিদ বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তালিকা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না। আমরা ওই তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। ’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান খান বলেন, ‘আমার কাছে কয়েকজন এসে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। অনিয়ম থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ’



সাতদিনের সেরা