kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কৃষকদের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা

কুমিল্লা প্রতিনিধি   

২৯ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৃষকদের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কুলাকানি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালের ১ জুলাই রায়কোট ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের ৭৮৯ জন সদস্য নিয়ে সমিতি গঠিত হয়। ২০০৪ সালের ২৮ জুলাই এটি সমবায় অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হয়। ফসল রক্ষা, মৎস্য ও কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা রাখা ছিল উদ্দেশ্য।

বিজ্ঞাপন

প্রতি মাসে সদস্যরা ১০ টাকা করে জমা দিতেন।

এই সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, ‘সাবেক সভাপতি কামরুল হক মজুমদার ও সহসভাপতি কবির হোসেন ২০১৮ সালে আমাকে বলেন কৃষকদের জমানো টাকা ব্যাংক থেকে তুলে গরুর ব্যবসা করবেন। আমি রাজি হইনি। তাঁরা আমাকে গোপনে বাদ দিয়ে অবৈধভাবে মাঈন উদ্দিনকে সমিতির সাধারণ সম্পাদক বানান। এরপর এই তিনজন মিলে ব্যাংক থেকে টাকা তোলেন। ’ তিনি জানান, ২০২০ সালের শেষের দিকে বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা আটজন জেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে তদন্ত হলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এরই মধ্যে অভিযুক্তরা সমিতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এ ঘটনায় জেলা সমবায় অফিসে শুনানি হলে অভিযুক্তরা টাকা ফেরত দেবেন বলে আশ্বাস দেন।

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছেরাজুল হক মজুমদার বলেন, ‘তারা কৃষকদের টাকা ফেরত দেবে বলে কয়েক দফা সময় নিয়েছে। ’

সদস্য মাওলানা ইস্রাফিল মিয়া বলেন, ‘আমরা তাদের বিচার চাই। ’

সদ্য সাবেক সভাপতি কামরুল হক মজুমদার বলেন, ‘ওই টাকা ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। গ্রহীতাদের মধ্যে কবির হোসেন দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। বাকি তিন লাখ টাকা একটি জায়গা বিক্রি করতে পারলেই পরিশোধ করা হবে। ’ সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন বিদেশে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, সদস্যদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের তদন্তে টাকা আত্মসাতের প্রমাণ না পেলেও নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের সত্যতা পেয়েছি। কারণ নিয়মানুযায়ী সমিতির কোনো সদস্য ঋণ নিতে পারেন না। আমাদের তদন্তের পর এ নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হলে সেখানে সাবেক সহসভাপতি কবির হোসেন দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। আর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন গত বছরের মার্চের ১০ তারিখের মধ্যে বাকি তিন লাখ টাকা পরিশোধ করবেন মর্মে আমাদের চেক দিয়েছেন। কিন্তু আমরা এখনো টাকা পাইনি।

মো. আল আমিন আরো বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচিত কমিটি দরকার। আমাদের কর্মকর্তাদের দিয়ে এ পর্যন্ত দুইবার সমিতির আহ্বায়ক কমিটি করেছি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য। কিন্তু আমরা সমিতির সদস্যদের কোনো সাড়া পাচ্ছি না। সর্বশেষ গত প্রায় দুই মাস আগেও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে এতে কেউ প্রার্থী হননি। আর এই সমস্যার মূলে আছেন কামরুল হক মজুমদার। তিনি চাইলে যেকোনো মুহূর্তে এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন। শিগগিরই নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। কৃষকদের জমানো কষ্টের টাকা কোনোভাবেই মেরে খাওয়ার সুযোগ নেই।



সাতদিনের সেরা