kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১০ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৮ সফর ১৪৪৪

‘ঘরডা নদীতে গেলে পোলাপান লয়ে কই যামু’

রেজাউল করিম বকুল, শ্রীবরদী (শেরপুর)   

২৮ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘কত কষ্ট কইরা এইহানে এডা বাড়ি করছিলাম। জায়গা ছিল। উঠান ছিল। রান্নাঘর ছিল।

বিজ্ঞাপন

পোলাপান এইহানে খেলত। সবজির ক্ষেত ছিল। এগুলা নদীতে ভাইঙ্গা গেছে। থাহনের ঘরডাও কহন জানি নদীতে ভাইঙ্গা যায়। ডর লাগে। এর লাইগা আতে ছুড ছুড পোলাপান লয়ে মানসের মেলের। বারিন্দায় থাহি। ঘরডা নদীতে গেলে আমরা পোলাপান লয়ে কই যামু। ’

কথাগুলো বলছিলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌর শহরের আড়াইআনি মহল্লার ভোগাই নদী ভাঙনকবলিত এলাকার গৃহবধূ কোহিনুর বেগম। তিনি জানান, তাঁর স্বামী মিজানুর রহমান অল্প পুঁজি দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে সংসার চালান। মেয়েকে স্কুলে পড়তে দিয়েছেন। জীবনের স্বপ্ন বুনছেন। তিন বছর আগে ৫০ শতাংশ জমি ক্রয় করে বাড়ি করেন। অবশিষ্ট জমিতে সবজির চাষ করতেন। এভাবে সুখে দিন কাটছিল তাঁদের।

কোহিনুর জানান, এবার পাহাড়ি ঢলে কানায় কানায় ভরে যায় ভোগাই নদীর দুই পার। প্রবল স্রোতে দেখা দেয় নদীভাঙন। সম্প্রতি বাড়িসংলগ্ন সবজির ক্ষেতসহ পাশের দুটি রাইস মিলের মাঠ, কয়েকটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে বেড়েছে নদীভাঙনের মাত্রা। এতে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে অর্ধশত বসতবাড়ি, দুটি রাইস মিল, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে নদীপারের মানুষ।

প্রতিবেশী জেলেখা বেওয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আইডের সময় স্বামী এইহানে এডা ঘর তুলে। এই ঘরেই দুই ছেলে ও দুই মাইয়ার মা অইলাম। সব নদীতে ভাইঙ্গা গেছে। অহন আমগোরে কোনো জায়গাজমি নাই। থাহি মানসের বাড়ি। সরহার যেন আমগোরে এডা থাহনের জায়গা দেয়। ’

তারাগঞ্জ ফাজিল মাদরাসার শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এই এলাকাটি নালিতাবাড়ী পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ স্থান। নদীভাঙনের কারণে এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত নদীপারের বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল জব্বার বলেন, নদীর অপর পারে নদীভাঙন রোধে বাঁধ দেওয়া হয়। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। ক্রমেই এপারে নদীর পার ভেঙে পড়ছে। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অনেক স্থাপনা নদীগর্ভে ভেঙে পড়বে। এ জন্য প্রয়োজন নদীর পারে বাঁধ নির্মাণ।

 



সাতদিনের সেরা