kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘এভাবে আর দিন চলে না’

পাটিশিল্পীদের দুর্দিন

লিটন শরীফ, বড়লেখা (মৌলভীবাজার)   

২৭ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘এভাবে আর দিন চলে না’

ক্রেতার অপেক্ষায় একজন পাটিশিল্পী। গতকাল মৌলভীবাজারের বড়লেখায়

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বাজার। ছাতা মাথায় পানিতে পাটি নিয়ে দাঁড়িয়ে ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করছিলেন ষাটোর্ধ্ব নিরেন্দ্র কুমার দাস। পাটি বিক্রি করে ঘোরে তাঁর সংসারের চাকা। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো ক্রেতার দেখা পাচ্ছিলেন না তিনি।

বিজ্ঞাপন

এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পাটিশিল্পী ফরিন্দ্র দাসকে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে নিরেন্দ্র বললেন, ‘এভাবে আর দিন চলে না। ’

নিরেন্দ্র কুমার দাস মৌলভীবাজারের বড়লেখার তালিমপুর ইউনিয়নের হাকালুকি হাওরপারের গগড়া গ্রামের বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকেই বাপ-দাদার কাছ থেকে শেখা এই পেশাকে আঁকড়ে ধরে কোনোমতে পরিবার নিয়ে খেয়ে-পরে তাঁর সংসার চলছিল। কিন্তু ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে হাকালুকি হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে হাকালুকি হাওরের বাংলাবাজার তলিয়ে যাওয়ায় নিরেন্দ্র কুমারের মতো অনেকে চরম বিপাকে পড়েছেন। কারণ বাজারে ক্রেতা না থাকায় পাটি বেচাকেনা প্রায় বন্ধ।

আলাপকালে নিরেন্দ্র কুমার দাস বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে পাটি তৈরি করে বিক্রি করছি। বাপ-দাদার কাছ থেকে এই কাজ শিখেছি। অন্য কোনো কিছু শিখিনি। ’ তিনি বলেন, ‘একসময় পাটির চাহিদা ছিল, কিন্তু দিন দিন তা কমছে। তার পরও কোনোমতে পরিবার নিয়ে খেয়ে-পরে বেঁচে আছি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে বন্যার কারণে বাজারে ক্রেতা নেই। তাই পাটি বেচাকেনা একদম নেই। এ কারণে পাটি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। যদি ক্রেতা পাই তাহলে কম টাকায় পাটিটি বিক্রি করে ঘরে চাল-ডাল নিতে পারব। ’

নিরেন্দ্র কুমার দাস বলেন, ‘বন্যার পানি ঘরে উঠেছে। কোনোমতে ঘরে আছি। পানি বাড়লে অন্য কোথাও আশ্রয় নিতে হবে। খুব কষ্টের মধ্যে আছি। এই অবস্থায় কিভাবে খাব, কিভাবে চলব, তা নিয়ে চিন্তা করছি। ’

নিরেন্দ্রর পাশে থাকা ফরিন্দ্র দাস (৪৬) বলেন, ‘পাটি বিক্রি করে আমাদের পরিবার চলে। বাজারে ক্রেতা নেই। তাই আজকে আর পাটি আনিনি। খুব কষ্ট করে ধার করে চলতে হচ্ছে। জানি না কপালে কী আছে। ’

নিরেন্দ্র কুমারের মতো বাজারে পলিথিনে মুড়িয়ে পাটি হাতে ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করছিলেন রিশি কান্ত দাস (৫৫)। বাজারে ক্রেতা না থাকায় তাঁকেও অনেকটা হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।



সাতদিনের সেরা