kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

‘সমাজ ক্রমশ হাত থেকে বের হয়ে যাচ্ছে’

শহীদ জননীর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘সমাজ ক্রমশ হাত থেকে বের হয়ে যাচ্ছে’

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মোমবাতি প্রজ্বালন করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ধর্মকে যখন বিদ্বেষ-বৈষম্য ও সন্ত্রাস বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যখন ধর্ম-বর্ণ-বিত্ত-লিঙ্গ-নির্বিশেষে সব মানুষের মর্যাদা ধুলায় মিশে যায়, কোনো রাষ্ট্রে ও সমাজে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বোধ হারিয়ে যায়—সে রাষ্ট্র ও সমাজ কখনো সভ্য বলে দাবি করতে পারে না। রাষ্ট্র আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শক্তির হাতে, কিন্তু সমাজ ক্রমশ আমাদের হাত থেকে বের হয়ে যাচ্ছে।

গতকাল রবিবার বিকেলে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ‘জাহানারা ইমাম স্মারক বত্তৃদ্ধতা’, আলোচনাসভা এবং ‘জাহানারা ইমাম স্মৃতি পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

‘জাহানারা ইমাম স্মারক বত্তৃদ্ধতা’ দেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সভাপতি নাট্যনির্দেশক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ। তাঁর বত্তৃদ্ধতার বিষয় ছিল ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে মৌলবাদের উত্থান এবং আমাদের দায়’। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির।

অনুষ্ঠানে এ বছর ব্যক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঢাকার চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু ও ফরিদা পারভীন ফাউন্ডেশনের সভাপতি লালনগীতি শিল্পী ফরিদা পারভীনকে এবং সংগঠন হিসেবে ‘বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার’কে জাহানারা ইমাম স্মৃতি পদক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপুর পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন তাঁর কন্যা ডানা নাজলী।

আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সভাপতি নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, ১৯৭১ : গণহত্যা নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন এবং বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দে।

সভাপতির বক্তব্যে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘তিরিশ বছর আগে নির্মূল কমিটির অভূতপূর্ব নাগরিক আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল দুটি প্রধান দাবির ভিত্তিতে। আমাদের প্রথম দাবি আংশিক পূরণ হলেও দ্বিতীয় দাবি আজও অর্জিত হয়নি। কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিনাশী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের আধিপত্য বিস্তারে সক্রিয় রয়েছে, যা আরম্ভ হয়েছে ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকে। ’

 



সাতদিনের সেরা