kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

৭০০ কেন্দ্রে কলেরার টিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৭০০ কেন্দ্রে কলেরার টিকা

ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচটি এলাকার বাসিন্দাদের কলেরায় আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করতে টিকা খাওয়ানো শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার থেকে যাত্রাবাড়ী, দক্ষিণখান, সবুজবাগ, মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এলাকায় ৭০০ টিকাদান কেন্দ্রে সপ্তাহব্যাপী এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র আইসিডিডিআরবির সাসাকাওয়া মিলনায়তনে গতকাল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বিস্তৃত এই কলেরা টিকা খাওয়ানো কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, ‘আগে যেসব এলাকায় কলেরার টিকা দেওয়া হয়েছিল, সেসব এলাকায় আমরা খুব ভালো ফল পেয়েছি।

বিজ্ঞাপন

আমি আহ্বান জানাব সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা যেন এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন এবং এই রোগ থেকে নিরাপদ থাকেন। ’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মু. শফিকুল ইসলাম, আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ, সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ও ইনফেকশাস ডিজিজেস ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র ডিরেক্টর ফেরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, আইসিডিডিআরবি, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য দেশি ও বিদেশি সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা।

আইসিডিডিআরবি জানায়, সাধারণত বাংলাদেশে এপ্রিল থেকে মে এবং আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর বছরে এই দুই বার তীব্র ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ বছর ঢাকায় মার্চ থেকে মে পর্যন্ত ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। আক্রান্তদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি রোগীর বসবাস ঢাকার যাত্রাবাড়ী, দক্ষিণখান, সবুজবাগ, মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এলাকায়। ওই সময়ে ডায়রিয়া রোগীদের প্রায় ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত কলেরায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়। এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) শাখার অধীন ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি নানা উদ্যোগ নেয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর খুব দ্রুততার সঙ্গে ইন্টারসেক্টোরাল কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইসিজি) কাছে ‘প্রতিক্রিয়াভিত্তিক (রি-অ্যাক্টিভ) কলেরা টিকাদান কর্মসূচির’ জন্য টিকার সংস্থান করতে আহ্বান জানায়। আইসিজি প্রায় ৪৭ লাখ ৫০ হাজার মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা দিতে সম্মত হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সার্বিক সহায়তায় আইসিডিডিআরবি গতকাল রবিবার থেকে আগামী ২ জুলাই, শনিবার পর্যন্ত কলেরার টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করবে।

জানা যায়, কমপক্ষে ১৪ দিন অন্তর দেওয়া দুই ডোজের দক্ষিণ কোরিয়ার ইউবায়োলোজিক্স কম্পানি লিমিটেডের তৈরি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত ইউভিকল প্লাস নামের কলেরার টিকা এক বছর থেকে তদূর্ধ্ব বয়সীদের দেওয়া হবে। গর্ভবতী নারী এবং যাঁরা গত ১৪ দিনের মধ্যে অন্য কোনো টিকা নিয়েছেন, তাঁরা ছাড়া সবাই এই টিকা নিতে পারবেন। এই টিকা নেওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে অন্য কোনো টিকা নেওয়া যাবে না।

কোন এলাকায় কতজন পাবে টিকা

আইসিডিডিআরবি জানায়, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রথম ডোজের কলেরা টিকাদান কর্মসূচি চলছে। যাত্রাবাড়ীর প্রায় পাঁচ লাখ, সবুজবাগের প্রায় চার লাখ ২০ হাজার, দক্ষিণখানের প্রায় দুই লাখ ৮০ হাজার, মিরপুরের প্রায় সাত লাখ ৮০ হাজার এবং মোহাম্মদপুরের প্রায় চার লাখ অধিবাসীকে কলেরার টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে মাইকিং করা হচ্ছে। কভিড-১৯-সংক্রান্ত সতর্কতা অবলম্বন করে এসব এলাকার অধিবাসীকে কলেরার টিকা নিয়ে এ রোগ প্রতিরোধ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

 



সাতদিনের সেরা