kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

বিক্রয় প্রতিনিধিদের বেঁধে রাখল আনসাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৭ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিক্রয় প্রতিনিধিদের বেঁধে রাখল আনসাররা

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র দেখার অপরাধে ওষুধ কম্পানির পাঁচ রিপ্রেজেন্টেটিভের (বিক্রয় প্রতিনিধি) কোমরে দড়ি বাঁধার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের প্রকাশ্যে প্রায় ১০ মিনিট হাসপাতালসংলগ্ন রাস্তায় একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রবিবার সকাল ১০টার দিকে। এ ঘটনার পরে ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে হেনস্তার শিকার হওয়া রিপ্রেজেন্টেটিভদের নাম পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে বহির্বিভাগের সামনে ওষুধ কম্পানির পাঁচজন রিপ্রেজেন্টেটিভ রোগীদের কাছ থেকে চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র চেয়ে নিয়ে ছবি তুলছিলেন। এ সময় কর্তব্যরত আনাসার সদস্যরা ছবি তুলতে বাধা দিলে তাঁদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ওই পাঁচজন রিপ্রেজেন্টেটিভকে আটক করেন আনসার সদস্যরা। এরপর তাঁদের হাসপাতালসংলগ্ন রাস্তায় একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানির কাছে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান হেনস্তার শিকার রিপ্রেজেন্টিভরা।

এ বিষয়ে ‘একমি’ ওষুধ কম্পানির এরিয়া ম্যানেজার মুকিবুল ইসলাম বলেন, ‘হেনস্তার শিকার হওয়াদের মধ্যে আমাদের কম্পানির দুজন প্রতিনিধি ছিলেন; কিন্তু তাঁরা কী এমন অপরাধ করল যে—এভাবে প্রকাশ্যে হেনস্তা করতে হলো? করোনানার সময় আমরা জীবন বাজি রেখে মানুষের মধ্যে ওষুধ পৌঁছে দিয়েছি। এখন হয়তো রোগীদের স্বজনদের কাছ থেকে বিনয়ের সঙ্গে ব্যবস্থাপত্র চেয়ে নিয়ে সেগুলোর ছবি তুলছেন তাঁরা। এই অপরাধে এত বড় সাজা দিতে হবে আমাদের? এর আগেও নানাভাবে রিপ্রেজেনটিভদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তবে এভাবে তাঁদের জনসমক্ষে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার ঘটানটি খুবই দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনা কোনো সভ্য সমাজের ক্ষেত্রে মানায় না। ’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানি বলেন, ‘রিপ্রেজেন্টেটিভরা ব্যবস্থাপত্র দেখার নামে রোগীদের হয়রানি করেন। তাঁদের নিষেধ করার পরও হাসপাতাল চত্বরে এসে একই কাজ করেন।

এ কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আনসার সদস্যরা তাই কয়েকজনকে আটকে রেখেছিলেন; কিন্তু তাঁদের কোমরে দড়ি বাঁধার বিষয়টি আমার জানা নেই। ’

 

 

 



সাতদিনের সেরা