kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

‘ঘর টিক করার টেখা কে দিব’

শিপার আহমেদ, বিয়ানীবাজার (সিলেট)   

২৬ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘ঘর টিক করার টেখা কে দিব? এখন ত সবে চাউল, ডাইল, তেল দিরা কেউ রান্দিয়া খানি দিরা তিন ওক্ত। চিন্তার মাঝে আছি পানি নামার পরে বউ, পুয়া, পুরি লইয়া ঘরও কিলা থাকতাম। ঘরও কমর পানি আর পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রত আছইন। আমি রাইত আইয়া ঘরর দারিত নৌকা বান্দিয়া ঘুমাই।

বিজ্ঞাপন

ডর করে পানির ঠেলায় ঘরনি আমার উপরে পড়ি যায়। পানির ঠেলায় রাইত ঘুম অয় না। ’

কথাগুলো বলছিলেন, সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের জালালনগর গ্রামের জহুর উদ্দিন (৫৫)। পেশায় তিনি দিনমজুর। মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে তাঁর পরিবার চলে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে চারখাই ইউনিয়েনর সব গ্রাম। তাই কাজ নেই তাঁর। পাঁচ দিন থেকে পরিবারকে নিয়ে উঠেছেন চারখাই উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে। তবে রাতে ঘরের বারান্দায় নৌকা বেঁধে তাতেই রাত কাটান তিনি। ছয়জনের পরিবার নিয়ে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কোথায় উঠবেন তিনি সে চিন্তায় তাঁর ঘুম আসে না।

গতকাল শনিবার চারখাই ইউনিয়নের জালালনগর গ্রামে নৌকায় করে জহুর উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘরে এখনো পানি। পানিতে নষ্ট হচ্ছে ঘরের সব আসবাব। অবশ্য কিছু জিনিসপত্র তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে গেছেন।

কথা হয় একই গ্রামের আবু বক্করের (৫০) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি নিজে একজন রুজ কামলা। মানুষর বাড়িত কাম করি পারিবার চালাই। ১১ জনের পরিবারেও আমি একমাত্র রুজগারি। এক মাস থাকি রুজি নাই। এলাকার মানুষর সাইজ্জে চলিয়ার। আমার বাইচ্চাইন সব ছোট ছোট। ইতা এব রুজির যুকা ওইছন না। পরিবার এখন আছইন আশ্রয়কেন্দ্র। ইনর খানি খাইতাম পারি না তারা তিন ওক্ত সিদ্ধ চাউলর ভাত রান্দিয়া দেইন। কোনোমতে না পারতে বাঁচার লাগি খাই। ’

নৌকা নিয়ে জালালনগর দিয়ে যেতে ঘরের জানালায় তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়, আফিয়া বেগমকে (৫৫)। ঘরে কোমর পানি। তাই বাঁশ দিয়ে মাচা বানিয়ে আছেন ঘরের ভেতর। আফিয়া বলেন, ‘ঘরও পানিয়ে খলখলি করের। বাঁশ দিয়া চাঙ্গ বানাইয়া আছি। আশ্রয়কেন্দ্রেত যাইতে শরম করে। আশ্রয়কেন্দ্রেত যাগা ওর মানুষে যত মানুষ আমরার জাগা ওইত না। কেউ নৌকাও করি কিচ্চু আনি দিয়ে কোনোমতে রান্দিয়া খাই। আর নাইলে উপাস থাকা লাগে। ’



সাতদিনের সেরা