kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

দিন যেমন-তেমন, রাত কাটছে আতঙ্কে

লিটন শরীফ, বড়লেখা (মৌলভীবাজার)   

২৬ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিন যেমন-তেমন, রাত কাটছে আতঙ্কে

বন্যায় বেহাল ঘর। গতকাল মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার তালিমপুরে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঘরের মাটি পর্যন্ত স্রোতে ধুয়ে গেছে। এবড়োখেবড়ো ভিটায় দাঁড়িয়ে আছে ভাঙাচোরা ঘরের কাঠামো। কোনোটার বেড়া ভাঙা তো কোনোটার খুঁটি নেই। কোনোটার শুধু ওপরে টিন আছে।

বিজ্ঞাপন

এমন ঘরে টিকতে না পেরে অনেকেই ছুটে গেছে আশ্রয়কেন্দ্রে। কেউবা গেছে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি।

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের হাকালুকি হাওরপারের মুর্শিবাদকুরা, বড়ময়দান, দুর্গাই, পশ্চিম গগড়া, পূর্ব গগড়া, শ্রীরামপুরসহ বেশির ভাগ গ্রামেই চোখে পড়ছে এমন দৃশ্য। বাড়িঘর খালি পড়ে আছে।

তালিমপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সুজিত দাস বলেন, ‘হাওরপারের মানুষের দিন যেমনতেমন, রাত কাটে আফাল (ঢেউ), ডাকাত আর সাপ আতঙ্কে। এর মাঝে বিদ্যুৎ নেই প্রায় ১৫-২০ গ্রামে। মানুষের রান্নার কষ্ট। শৌচাগারের কষ্ট। বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। এখন ধনী-গরিব সব সমান। বাজারঘাট পানির নিচে। ’

গতকাল শনিবার তালিমপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার থেকে নৌকায় করে পশ্চিম গগড়া গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়ে পানিতে তলিয়ে আছে ঘর। গ্রামের ভেতর দিয়ে যেতে যেতে দেখা যায়, ঘরের ভিটার মাটি নেই। ঘরের নিচে ফাঁকা হয়ে আছে। গ্রামের আমিনা বেগমসহ অনেকের ঘরে এই অবস্থা। আমিনা দিনে ভাঙা বাড়িতে থাকেন। রাতে নানাবাড়ি চলে যান।

পশ্চিম গগড়া গ্রাম থেকে হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। কিন্তু আমিনার পরিবার সেখানে আশ্রয় নেয়নি। আমিনা বলেন, ‘বন্যার শুরুর দিকে আমরা ধান-চাল অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়েছি। এগুলো ক্ষতি হয়নি। মা আর আমি নানাবাড়ি থাকি রাতে। ছোট ভাই রাতে বাড়িতে থাকে। রাতে ঢেউ আর সাপের আতঙ্ক থাকে। ’

নৌকায় যেতে যেতে কথা হচ্ছিল পশ্চিম গগড়া গ্রামের অনন্ত দাসের সঙ্গে। তিনি মূলত ভ্যানচালক। জানালেন, প্রায় ১৫ দিন থেকে রোজগার বন্ধ। বাজার ডুবে গেছে। তাঁর ভ্যানগাড়িও পানির নিচে। কথা বলতে বলতে চোখ পড়ল অনন্তের পায়ের দিকে। গুটিবসন্তের মতো দুই পায়ে দাগ। কিসের দাগ জিজ্ঞেস করতেই অনন্ত বলেন, ‘আমরার কষ্টের কোনো সীমা নেই। পানিতে দুর্গন্ধ, মাইনষের শরীরে পানিবাহিত নানা ধরনের রোগ দেখা দিছে। আমারও এই রকম। ওষুধ কিনতাম টাকা নাই। কপালে যা হয় হবে। ’

পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম এমাজ উদ্দিন সরদার বলেন, হাকালুকি হাওর এলাকায় লাইনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। পল্লীবিদ্যুতের লোকজন লাইনের মেরামত করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রত্নদীপ বিশ্বাস বলেন, ‘পানিবাহিত রোগের ওষুধের জন্য আমরা বরাদ্দ চেয়েছি। বরাদ্দ এলে আমরা মানুষের মাঝে ওষুধ বিতরণ করব। ’



সাতদিনের সেরা