kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৯ সফর ১৪৪৪

রাঙ্গাবালীতে রফায় জেলেদের ছাড়

আগুনমুখা নদীতে মৎস্য অভিযান

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

২৬ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাঙ্গাবালীতে রফায় জেলেদের ছাড়

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে মৎস্য অভিযান চালিয়ে দুই ট্রলারসহ কয়েকজন জেলেকে আটক করে নৌ পুলিশ। পরে মাঝনদীতে দুই ঘণ্টা অবস্থান করে তারা। এর মাঝে হয় রফা। পরে ট্রলারসহ ছেড়ে দেওয়া হয় জেলেদের।

বিজ্ঞাপন

গত শুক্রবার রাতে উপজেলার আগুনমুখা নদীসংলগ্ন কোড়ালিয়া ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগেও নদীতে অভিযানের নামে রফাদফা করে জেলেদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় জেলে ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আগুনমুখা নদীসংলগ্ন কোড়ালিয়া ঘাট এলাকায় মৎস্য অভিযান চালায় নৌ পুলিশ। পায়রা বন্দর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোমেনুর মমিনের নেতৃত্ব এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কোড়ালিয়া ঘাটে থাকা সুমন জোমাদ্দার ও রাজু হাওলাদারের ট্রলারে অভিযান চালানো হয়। আটক করা হয় ৮-১০ জন জেলেকে। পরে তাঁদের হাতে হাতকড়াও পরানো হয় বলে জানান এক প্রত্যক্ষদর্শী ট্রলার মালিক।  

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কয়েকজন সংবাদকর্মী জানান, আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কোড়ালিয়া ঘাটে অবস্থান করে নৌ পুলিশের দল। এর মাঝে দুই মৎস্য আড়তের তালা ভাঙতেও চায় তারা। পরে কাওসার নামের স্থানীয় এক মৎস্য ব্যবসায়ীর মধ্যস্থতায় নৌ পুলিশের সঙ্গে রফাদফা হয়। পরে ছেড়ে দেওয়া হয় আটক হওয়া জেলেদের। ট্রলারসহ জেলেদের আটক করা ও ছেড়ে দেওয়ার এ ঘটনার অংশবিশেষের একটি ভিডিও ক্লিপ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী এক ট্রলার মালিক জানান, দুই ট্রলারে ১০ জন জেলে ছিল। তাঁদের হাতে হাতকড়া পরানো হয়। পরে দুই ট্রলার মালিকের পক্ষ থেকে ২০ হাজার করে মোট ৪০ হাজার টাকা দিলে জেলেদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি আরো জানান, এর আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে। সোনারচর, আন্ডারচর, বউবাজারসহ আশপাশ এলাকায় নৌ পুলিশ অভিযানের নামে জেলেদের আটকে টাকা নেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পায়রা বন্দর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোমেনুর মমিন বলেন, ‘অভিযানে আসছিলাম। জেলে তো ধরতে পারি নাই। পরে ওরা যে আড়তে মাছ দিচ্ছিল, ওই আড়তে গেছিলাম। তবে তা বন্ধ পাইছি। ’ রফাদফার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ রকম কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই।

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘আমরা অনেকবার বলেছি, অভিযান চালানোর আগে আমাদের জানান অথবা আমাদের সঙ্গে নিন। অন্তত অভিযানের ফলাফলটা জানান। কিন্তু তারা তাদের মতো করে কাজ করছে। এখন ফোন করলে বলবে আমরা তো যাইনি। আমি নৌ পুলিশকে মৌডুবিসহ আশপাশে টহল জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছি, কিন্তু তারা কোড়ালিয়া নদীতে টহল দিয়েছে। ’



সাতদিনের সেরা