kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বাণিজ্যে গতি আসবে, জট খুলবে চট্টগ্রাম বন্দরের

এম সায়েম টিপু   

২৫ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে জট খুলবে চট্টগ্রাম বন্দরের। সঙ্গে ব্যবহার বাড়বে পায়রা ও মোংলা বন্দরের। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানির গতি আরো বাড়বে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তবে তার আগে পায়রা ও মোংলা বন্দরকে ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

বিজ্ঞাপন

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ফলে বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক দ্রুত সময়ে পৌঁছে যাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এতে পরিবহন খরচ কমে এসে বাজারে পণ্যের দামও কমবে।

দেশের বেশির ভাগ কলকারখানা ও তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামালের ৮০ শতাংশ আমদানি হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। বন্দর থেকে খালাসের পর এসব কাঁচামাল দ্রুত সময়ে কলকারখানায় পৌঁছানো গেলে পণ্যের উৎপাদন খরচ কমে আসবে। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি হলো।

পদ্মা সেতু চালুর মাধ্যমে জিডিপি এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে উল্লেখ করে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন পদ্মার ওপারেও শিল্প-কলকারখানা এবং  কৃষিজাত পণ্যের বাজার প্রসারিত হবে। পদ্মার ওপারের কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্য স্বল্প সময়ে এবং স্বল্প খরচে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করে বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে সামগ্রিক যাতায়াতব্যবস্থা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে আমূল পরিবর্তন আসবে।

সম্প্রতি এক সেমিনারে সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ পদ্মা সেতু হবে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এই সেতুর মাধ্যমে আমাদের জিডিপিতে বাড়তি ১০ বিলিয়ন ডলার যোগ হবে। ’

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর একমুখী চাপ, সমুদ্রের বহিনোঙরে দিনের পর দিন জাহাজজটে ব্যবসায়ীদের ডেমারেজ গুনতে হয়। পদ্মা সেতুর ফলে এসবের নিরসন হয়ে পরিবহন ভাড়া কমে আসবে, পণ্য আমদানি-রপ্তানির লিড টাইমও কমবে। এর ফলে ব্যবসায় ব্যয় কমবে। গতিশীল হবে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। ফলে বাজারে পণ্যের দামও কমবে। ’

মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়বে উল্লেখ করে নিট পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালুর মাধ্যমে পোশাক খাতের জন্য মোংলা বন্দর বেশি উপযোগী হবে। প্রতি কনটেইনারে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পরিবহন খরচ কমবে। এটা প্রায় মোট পরিবহনের ২০ শতাংশ। তবে পদ্মার চার্জ ও টোল বেশি। এটাকেও নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। আর মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে নতুন শিল্পাঞ্চল। ’

পদ্মা সেতু চালুর পর মোংলা বন্দরে আমদানি-রপ্তানি আরো বাড়বে উল্লেখ করে খুলনার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সুন্দরবন একাডেমির পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হলে মোংলা বন্দর আরো সচল হবে। এর ফলে ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবেন। পায়রা, বেনাপোল, ভোমরা বন্দর দিয়েও বাড়বে আমদানি-রপ্তানি। ’

তিনি আরো বলেন, ‘পদ্মা সেতু এ অঞ্চলে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রাখবে। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবেও খুলনা অঞ্চল সমৃদ্ধ হবে। এ অঞ্চলের যেসব সড়ক রয়েছে সেগুলো পরিকল্পিতভাবে সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। ’

 



সাতদিনের সেরা