kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

অশীতিপর জাহেরার দুঃখভরা জীবন

মনিরুজ্জামান, নেত্রকোনা   

২৫ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অশীতিপর জাহেরার দুঃখভরা জীবন

রান্নায় ব্যস্ত জাহেরা বানু। গতকাল নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে। ছবি : কালের কণ্ঠ

জাহেরা বানুর বয়স ৮০ বছরের বেশি। স্বামী বেঁচে নেই। চোখেমুখে বয়সের ছাপের সঙ্গে দুশ্চিন্তার ছাপও স্পষ্ট। তিনতলার একটি কক্ষের বারান্দার কোণে বসে মাটির চুলায় কাগজ-খড়কুটো জ্বালিয়ে ত্রাণের ডাল রান্না করছেন।

বিজ্ঞাপন

দৃশ্যটি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রের। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সেখানে কথা হয় জাহেরার সঙ্গে। তিনি জানান, তাঁর পাঁচ ছেলের দুজন রোগশোকে মারা গেছেন। এর মধ্যে বছর চারেক আগে তিন মেয়ে রেখে মারা যান বড় ছেলে খায়রুল আমিন। ছেলের বউ তিন শিশুসন্তান এই বৃদ্ধার কাছে রেখে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান। এই তিন শিশুর লালন-পালন জাহেরা বানুর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে সাদিয়া (৮) ও নাদিয়া (৬) নামের দুই নাতিকে অন্যের কাছে দত্তক দেন। বড় নাতি ১০ বছরের সোমাইয়াকে নিজের সঙ্গে রাখেন।

কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের ওমরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা জাহেরার সম্বল বলতে একটি ছোট কুঁড়েঘর। বন্যায় ওমরগাঁও গ্রামের ওই ঘরে ঢোকে বুক সমান পানি। ভেঙে যায় ঘরের বাঁশের বেড়া। পরে স্থানীয় লোকজন নাতিসহ জাহেরাকে উদ্ধার করে এই আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠান।

জাহেরা বানু বলেন, ‘আমি জনমদুঃখী। কোনো রহমে রুহুডা বাঁচছেয়্যা আছে। এহানে ভালাই আছি। এক পুঁটলা চাউল পাইছি। ডাইল পাইছি। অহন চিন্তায় ধরছে। পানি কমলে বাড়িত গেয়্যা ভাঙা ঘর কিবায় ঠিক করবাম। নাতিডার হাঁপানি। শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। ওষুধ কিনবাম, না ঘর ঠিক করবাম। ’

বর্তমানে জাহেরার তিন ছেলের দুজন পেটের দায়ে চলে গেছেন সিলেটে। এক ছেলে একটি বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরী। সেই ছেলের সংসারেও অভাব-অনটনের শেষ নেই। জাহেরা বানু জানান, তবু এ ছেলেটিই তাঁকে দেখভাল করেন। খেয়ে না খেয়ে নাতি সোমাইয়াকে নিয়ে চলে তাঁর জীবন।

নেত্রকোনায় বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও বাড়িঘরের ভিটামাটিতে এখনো পানি। বর্ন্যাত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে পারছে না। ঢলের তোড়ে ঘর ভেঙে পড়ায় কলমাকান্দায় জাহেরা খাতুনের মতো শত শত বন্যার্ত মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

গতকাল কলমাকান্দার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও শিশুখাদ্যের সমস্যা প্রকট। শিশুরা পেটের অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। কলমাকান্দার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪৩টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এই কেন্দ্রে উপজেলার মুক্তিনগর থেকে এসেছেন পান্না রানী সরকার। তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় সব টিউবওয়েল পানিতে ডুবে গেছে। খাবার পানির খুবই সংকট। শিশুদের বাইরে থেকে কিনে পানি পান করাচ্ছি। তাঁর দুই বছরের শিশু পূর্বা আচার্য ও একই কক্ষের রাখি আচার্যের ২৮ দিনের শিশুসন্তান বিপ্লবের পাতলা পায়খানা। এ নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় আছেন। ’ পান্না রানী জানান, সেনাবাহিনীর চিকিৎসকরা এসে দেখে ওষুধ দিয়ে গেছেন।

 



সাতদিনের সেরা