kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

পানি কমলেও অস্বস্তি দুর্ভোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পানি কমলেও অস্বস্তি দুর্ভোগ

দেশের উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলায় গতকাল শুক্রবার বন্যা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হয়েছে। তবে অবনতি হয়েছে মধ্যাঞ্চলের রাজবাড়ীতে।

পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি রাজবাড়ী জেলায় অব্যাহত আছে। এতে আরো ফসলি মাঠ ও নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সদর ও গোয়ালন্দের বরাট, খানগঞ্জ, চন্দনী, দেবগ্রাম, ছোটভাকলা ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলের কয়েক শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুর্ভোগ বাড়ছে মানুষের। কাঁচা ঘাসের ক্ষেত তলিয়ে গবাদি পশুর খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। বাড়ির চারপাশে পানি থাকার কারণে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে রাস্তাঘাট। নৌকাই এখন এসব চরাঞ্চলের মানুষের চলাচলের ভরসা।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া গেজ স্টেশন পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার (সেমি) পানি বেড়ে গতকাল দুপুর পর্যন্ত বিপত্সীমার ১৪ সেমি নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করলে হাজারো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমার নিচে নামায় কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে চর ও নদ-নদীর অববাহিকার নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে আছে। পানিবন্দি রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। অনেকের ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে গেলেও সেগুলো বসবাসের উপযোগী হয়নি। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হচ্ছে। চরের রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াতের ভোগান্তি কমেনি। উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জের চর মশালের বাসিন্দা মুসা মিয়া জানান, গ্রামের বেশির ভাগ লোকের আঙিনা ও বাড়ির চারপাশে পানি জমে আছে। কৃষক মাইদুল ইসলাম জানান, বন্যায় পাটক্ষেত ডুবে ছিল। পানি কমার পর দেখা যাচ্ছে বালু পড়ে পাটক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সন্ন্যাসী গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের জানান, সারডোবের চরে আবাদ করা তাঁর পাট ও বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। হাতে টাকাও নেই। সরকারি সহায়তা ছাড়া নতুন আবাদ করা সম্ভব হবে না।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আব্দুর রশিদ জানিয়েছেন, বন্যায় জেলায় ১৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় সাত হাজার কৃষককে বীজ, সার দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।

গাইবান্ধায় গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে ২৩ সেমি এবং ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা শহর পয়েন্টে ২০ সেমি কমে বিপত্সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানিও বিপত্সীমার নিচে রয়েছে। এতে গাইবান্ধার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে বন্যাদুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনব্যবস্থার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। বন্যার্তদের অভিযোগ, ত্রাণ তৎপরতা ও চিকিৎসা টিমের কার্যক্রম শুধু শহরসংলগ্ন বা নিকটবর্তী এলাকায় সীমাবদ্ধ।

উজান থেকে আসা ঢল ও ভারি বর্ষণে গাইবান্ধা সদরসহ সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার নদীবেষ্টিত ১৬৫টি চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। তলিয়ে যায় ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট।

নীলফামারীতে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে তিস্তা নদী। দুই দিন ধরে নদীর পানি বিপত্সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে। বিভিন্ন স্থানে আশ্রিত পরিবারগুলো নিজ নিজ বাড়িতে ফিরেছে। [প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠের রাজবাড়ী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী প্রতিনিধি। ]

 

 



সাতদিনের সেরা