kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

বুকপানিতে ফেলছে বালুর বস্তা

জে এম রউফ, বগুড়া   

২৫ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বুকপানিতে ফেলছে বালুর বস্তা

বগুড়ার সারিয়াকান্দির ইছামারা এলাকায় ভাঙনরোধে বুক পানিতে নেমে ফেলা হয় বালুভর্তি জিও ব্যাগ। ছবি : কালের কণ্ঠ

নবনির্মিত রিংবাঁধের নিচ থেকে মাটি কেটে বস্তায় ভরা এবং বুক পানিতে নেমে বালুভর্তি জিও ব্যাগ নদীতে ফেলা হচ্ছে। এ কারণে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীতীরের ভাঙন রোধ, রিংবাঁধ নির্মাণসহ জরুরি কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দাবি করেছে, যে স্থানে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে তার জরিপ শুষ্ক মৌসুমে করা হয়েছে।

সম্প্রতি রহদহ ঘাটের উত্তর পাশের গ্রোয়েনের মাথা থেকে দক্ষিণ পাশের ফকিরপাড়া পর্যন্ত একটি মাটির রিংবাঁধ নির্মাণ করে পাউবো।

বিজ্ঞাপন

৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাঁধের ঠিকাদার ছিলেন উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম ও কামালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হাসান হেলাল। এ ছাড়া পাশের ইছামারায় যমুনার ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিক আহম্মেদ ও যুবলীগ নেতা শাহাদৎ হোসেন।

গতকাল রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবনির্মিত বাঁধের মাঝ বরাবর প্লাস্টিকের বস্তায় মাটি ভরাট করা হচ্ছে। সেসব বস্তা ফেলা হবে বাঁধের পাশে। বস্তাগুলোতে বাঁধের পাশের মাটি কেটে ভরাট করছিলেন শ্রমিকরা। এ ছাড়া ইছামারায় দেখা যায়, বেশ কয়েকজন শ্রমিক বুক সমান পানির ভেতরে নেমে জিও ব্যাগ ফেলছেন। সেখানে দুই সপ্তাহ আগে ভাঙন দেখা দেয়। লোকালয় ও বাঁধ থেকে ওই স্থানের দূরত্ব অনেক কাছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে তা বাঁধে এসে ঠেকবে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

কামালপুরের বাসিন্দা মোস্তা ফকির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যহনকার কাজ তহন না কল্লে পড়ে কি উপুকার হবো? খরান থাহতে কাজ মাক কল্লেসিন ভালো হইতো। অ্যাকন খালি বিল-ছিল করার জন্নি ল্যাপছ্যাপ কাজ করিচ্চে। ’

একই গ্রামের বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘সরকার ট্যাহা দেয়, আর হামারেকে লোকজন তা পানিত ঢালে। হামরাই তো ভালো নইক্যা। বান্দের নিচের মাটি ক্যাটে বন্দোত দিলে কি কাম হবো?’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুষ্ক মৌসুমে ভাঙন রোধসহ বাঁধের মেরামত করলে সরকারের অনেক টাকা সাশ্রয় হতো। কিন্তু বর্ষার এই ভরা মৌসুমে এসব কাজ করায় তেমন কোনো ফল আসবে না।

কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোনিম খান ও কামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাছেদুজ্জামান রাসেল জানান, একে তো মাটির বাঁধ, তার ওপর নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে সেটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া ইছামারা এলাকায় এখন কাজ না করে পানি বাড়ার আগে কাজ করলে সেটি ফলপ্রসূ হতো। এখন সেখানে জিও টেক্সের ১০ বস্তা ফেললে পাঁচ বস্তা হয়তো সঠিক স্থানে পড়বে। কারণ পানির নিচে দেখা বা বোঝার উপায় নেই যে যথাস্থানে বস্তা গিয়ে পড়ছে কি না। এতে বিপুল অর্থের অপচয় হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হেলাল বলেন, ‘বাইরে থেকে মাটি এনে ওই বাঁধের নিচে রাখা হচ্ছে। সেসব মাটিই বস্তায় তোলা হচ্ছে। ’ আর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিক বলেন, ‘সোমবার পর্যন্ত দেড় হাজার বস্তা ফেলা হয়েছে। আরো বস্তা প্রস্তুত আছে। ’

 

ওই এলাকার কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) আহসান হাবিব বলেন, ‘বাঁধের পাঁচ মিটার দূর থেকে মাটি নেওয়ার বিধান থাকলেও ঠিকাদারের লোকজন তা অনেক সময় মানেন না। এখন যেহেতু পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, এ কারণে ওই এলাকায় মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর ইছামারায় শুষ্ক মৌসুমের জরিপ অনুযায়ী জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ’

পাউবো বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘নদীতীরে সাধারণত তিনটি প্রক্রিয়ায় কাজ হয়। একটি হলো বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ, একটি মেরামতকাজ এবং অন্যটি হলো বর্ষায় জরুরি কাজ। এখন সারিয়াকান্দিতে মেরামত ও জরুরি কাজ চলছে। এই বরাদ্দের কাজ বর্ষা মৌসুমেই করতে হবে। এ কারণে চাইলেও তা শুষ্ক মৌসুমে করা সম্ভব নয়। তবে চলমান কাজ যেন সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যায় তা তদারকি করা হচ্ছে। ’



সাতদিনের সেরা