kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

নিঃস্ব হওয়ার আতঙ্কে ঘুম হারাম কাওসারের

জৈন্তাপুর উপজেলা

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট   

২৪ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চোখের পলকে দুই প্রতিবেশীকে নিঃস্ব হতে দেখেছেন কাওসার আহমদ। নিজেও সম্পদের অর্ধেক খুইয়েছেন অবস্থাসম্পন্ন কাওসার। এরপর এক সপ্তাহ ধরে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। চোখ একটু লাগলেই আতঙ্কে ঘুম ভেঙে যায়।

বিজ্ঞাপন

কখন যেন বাকি সম্পদটুকু বিলীন হয়ে যায়।

কাওসারের বাড়ি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের বড়খেল গ্রামে। শুধু কাওসারের পরিবারই নয়, ফুঁসে ওঠা বড়গাঙ নদী এখন ইউনিয়নের তিন গ্রামের আতঙ্কের নাম। বড়খেল, নিজপাট তিলকিপাড়া ও নিজপাট বন্দরহাটির হাজারো পরিবার এখন ঝুঁকির মুখ। এর মধ্যে বড়খেল ও তিলকিপাড়া বেশি ঝুঁকিতে। দুই গ্রামের অন্তত ৭০০ পরিবার নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে।

কাওসারকে বুধবার পাওয়া গেল বড়গাঙ নদীর পারে। লুঙ্গি আর সাদা গেঞ্জি গায়ে তিনি নদীর পারে উদভ্রান্তের মতো হাঁটাহাঁটি করছিলেন। কথা হতেই হাত দিয়ে দেখিয়ে দিতে লাগলেন ১৬ জুনের আগে নদীর আকৃতি কেমন ছিল। তাঁর জায়গা নদীর কোন অংশ পর্যন্ত ছিল। দূরে নদীর পানিতে তখনো মাথাটা তুলে আছে বড় একটি বাঁশঝাড়।

কাওসার বললেন, ‘বাঁশঝাড়ের আরো কয়েক হাত দূর পর্যন্ত আমার জমি ছিল। আমাদের পরিবারের সর্বমোট সাত কিয়ার (এক কিয়ারে ৩০ শতাংশ) জমি ছিল। আগে অল্প অল্প করে কিছু নদীতে গেলেও ওই দিন চার কিয়ার জমি নদী নিয়ে গেছে। ’

নদীগর্ভে বিলীন হওয়া জমিতে পুরনো বাড়ি, ৩০টি বড় বড় গাছ, বাঁশঝাড় ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মুহূর্তে সব নদী টেনে নিয়ে গেল। এ দৃশ্য এখনো মনে হলে ভয়ে শরীর কাঁপে। ’ তিনি বলেন, পার ভাঙতে ভাঙতে নদী এখন তাঁদের দালানের কাছাকাছি চলে এসেছে। সময়ের ব্যবধানে সেটিও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার শঙ্কা। আর এমন কিছু হলে বড় পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে তাঁকে।

কাওসার বলেন, ‘নদীর সঙ্গে এখন দূরত্ব সাত থেকে আট হাতের মতো। আমাদের সব সঞ্চয় দিয়ে বানানো এ বাড়ি। আমি এখন কী করব, কার কাছে যাব বুঝে পাচ্ছি না। ঘর তো আর তুলে নিয়ে যাওয়া যাবে না।   প্রশাসনের কেউ একটা খোঁজ নিতে আসেনি। ’

কথাবার্তা শুনে এগিয়ে আসেন কাওসারের সত্তরোর্ধ্ব মা ফয়জুন নেসা। তিনি বলেন, ‘বন্যা যখন এলো তখন রাস্তা-উঠান-বাড়ি সব সমান হয়ে গিয়েছিল। বাচ্চাকাচ্চাদের পাঠিয়ে দিয়ে দুই দিন পর আমি আর আমার ছেলে চলে আসি। কেউ আমাদের আটকাতে পারেনি। ’

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুনর্বাসনের চিন্তাভাবনা আমাদের আছে, যদি তাঁরা চান। অনেকে পুনর্বাসিত হতে চান না। ’



সাতদিনের সেরা