kalerkantho

সোমবার । ৮ আগস্ট ২০২২ । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯ । ৯ মহররম ১৪৪৪

‘ছাওয়াটা শাকপাতা খাবার চায় না’

রোকনুজ্জামান মানু, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)   

২৩ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘ছাওয়াটা শাকপাতা খাবার চায় না’

দিনভর উপোস থেকে রান্না করছেন মর্জিনা বেগম। গতকাল উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে। ছবি : কালের কণণ্ঠ

মর্জিনা বেগমের (৩৯) স্বামী গোলাম রব্বানী চট্টগ্রামের একটি রড কারখানায় কাজ করেন। স্বামীর আয় কমে গেছে। বাড়ির আশপাশের শাক-সবজি ও স্বামীর পাঠানো সামান্য টাকা দিয়েই চলে তাঁর তিন সদস্যের সংসার। কিন্তু বাড়িতে বন্যার পানি ওঠায় আরো বিপাকে পড়েছেন মর্জিনা।

বিজ্ঞাপন

উঠানে বুকসমান পানি; ফলে আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে। এক সপ্তাহ ধরে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে হতদরিদ্র পরিবারটির।

সরেজমিন গত মঙ্গলবার কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কলাতিপাড়া বাঁধ রাস্তায় আশ্রিত মর্জিনা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, মা মল্লিকা বেওয়া ও শিশুসন্তান স্বপ্না খাতুনকে নিয়ে তাঁর তিন সদস্যের সংসার। সকালে তাঁরা খুদ খেয়েছেন। দুপুরে চুলায় ভাত বসিয়েছেন। রাঁধছেন ঝিঙার তরকারি। এই সবজি দিয়েই দুপুর ও রাতের খাবার সারবেন তাঁরা।

মর্জিনা বলেন, ‘হামরা গরিব, টেকা-পইসে নাই, মাছ-মাংস কন্টে পামো। ছোট ছাওয়াটা শাকপাতা খাবার চায় না। এক সপ্তাহেও মাছের মুখ দেখিনে। ’ মর্জিনা জানান, আগে তাঁরা বাঁধ রাস্তায় ছিলেন। কিন্তু বাঁধ সংস্কারের কারণে উচ্ছেদ হন তাঁরা। এরপর আশ্রয় হয় অন্যের ভিটায়। কিন্তু প্রতিবছর বন্যা এলে ফিরে আসেন সেই বাঁধে।

ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত উলিপুর উপজেলার হাতিয়া, বুড়াবুড়ি, বেগমগঞ্জ ও সাহেবের আলগা ইউনিয়নে বন্যার পানিতে চারদিকে থইথই। যতদূর চোখ যায়, পানি আর পানি। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, ফসলের ক্ষেত। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তবে দেখা নেই জনপ্রতিনিধিদের, পৌঁছায়নি পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল কুমার বলেন, বন্যার্তদের জন্য দুই লাখ টাকার শুকনা খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ ছাড়া বরাদ্দ পাওয়া ৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।

 

 

 

 



সাতদিনের সেরা