kalerkantho

সোমবার । ৮ আগস্ট ২০২২ । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯ । ৯ মহররম ১৪৪৪

সিলেট

পানি কমার পরও আতঙ্ক

পানি কমায় বাড়ি রওনা দিচ্ছি। জিনিসপত্রগুলো কোন অবস্থায় গিয়ে পাব তা নিয়ে আতঙ্কে আছি,আবু বক্কর,কোম্পানীগঞ্জের বর্ণি এলাকার বাসিন্দা

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট   

২৩ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সিলেট নগর থেকে কোম্পানীগঞ্জ মহাসড়কের কিছুদূর এগিয়ে গেলে দুই পাশে শুধু পানিই চোখে পড়ে। সদর উপজেলার ছালিয়ার পর গোয়াইনঘাট উপজেলার সালুটিকর বাজার। সালুটিকর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার যাওয়ার পর কোম্পানীগঞ্জের বর্ণি এলাকা। চোখে পড়ে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর।

বিজ্ঞাপন

সব কটিই সদ্য ভেসে ওঠা। অনেক ঘরের বেড়া, চালা নেই। এসব বাড়ির বাসিন্দারা আস্তে আস্তে ফিরতে শুরু করেছে নিজ ঘরে।

তেলিখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বর্ণি গ্রামে নিজ বাড়ি দেখতে নৌকায় যাচ্ছিলেন আবু বক্কর (৫৫)। তিনি বলেন, ‘ঘরে এত দিন বুক সমান পানি ছিল। ঘরের মালপত্র খাট-পালঙ্কের ওপর তুলে রেখেছিলাম। পানি কমায় বাড়ি রওনা দিচ্ছি। জিনিসপত্রগুলো কোন অবস্থায় গিয়ে পাব তা নিয়ে আতঙ্কে আছি। ’

কোম্পানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ইছাকলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও ত্রাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ৪ নম্বর ইছাকলস ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রিপন সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি বন্যার পরবর্তী সময় বারবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ পাইনি। আমার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ২৫০ মতো পরিবার রয়েছে এবং তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু আমি ত্রাণ পেয়েছি মাত্র ৮০ পরিবারের জন্য। বাকি পরিবারগুলোর কাছে আমি ত্রাণ দিতে পারি নাই। ’ তিনি আরো বলেন, ‘যেখানে প্রতিটি ওয়ার্ডে এক টন বরাদ্দ ছিল; কিন্তু আমরা কেন এত কম পেলাম তা জানি না। ’

সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলা ঘুরেও দেখা গেছে একই চিত্র। এসব এলাকার কিছু কিছু স্থানে বন্যার পানি ঘরের ভিটা থেকে নেমে যাওয়ায় অনেকে বাড়ি ফেরা শুরু করেছে। গোয়াইনঘাট উপজেলার খাগড়া গ্রামে দুপুর ১টার দিকে কথা হয় শমসু মিয়ার সঙ্গে। বন্যার পানি কমে যাওয়ায় তিনি নৌকা নিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলেন। মাত্রই ফিরেছেন আশ্রয়কেন্দ্রের কাছে। আশ্রয়কেন্দ্রে ঢোকার মুখে তাঁর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পানি ঘরের ভেতর থেকে নেমে গেলেও এখনো বারান্দা থেকে ছয় ইঞ্চি নিচে রয়েছে। ’

 



সাতদিনের সেরা