kalerkantho

সোমবার । ৮ আগস্ট ২০২২ । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯ । ৯ মহররম ১৪৪৪

‘আমরার খবর কেউ লরনা’

বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি   

২৩ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘আমরার খবর কেউ লরনা’

ত্রাণের গাড়ি এলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে দুর্গত মানুষ। গতকাল সিলেট শহরতলিতে। ছবি : এএফপি

‘ই-বারর পানি আইয়া যে ক্ষতি ওইছে আমার আল্লাহ জানোইন কিলা কাভার দিতাম। কোরবানির ঈদ ওর লাগি গরু লইসলাম তিনটা, একটা মরি গেছে, আরো একটা বেমার। আমার ঘরও কমর পানি, চুলাও ডুবি গেছে। আমার পারিবারের একমাত্র রোজগারি পুয়াও বেকার।

বিজ্ঞাপন

এক সাপ্তাহ থাকি ঘর পানি আমরার খবর কেউ লরনা। বাড়িঘরের সব নষ্ট হয়ে গেছে। টাকা-পয়সাও হাতে নাই। কিতক খরমু চিন্তাত আছি। ’

কথাগুলো বলছিলেন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ার বাজার ইউনিয়নের খশির নাম নগর গ্রামের সমছুল হক (৬৫)। দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে আলাদা থাকেন। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। সংসারে এখন স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়েসহ পাঁচজন। ছোট ছেলে ব্যাটারিচালিত টমটম চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। মূলত তাঁর আয়েই সংসার চলে। ছেলে যে রাস্তায় টমটম চালান সে রাস্তায় এখন কোমর সমান পানি। তাই টমটম বন্ধ, আয়ও নেই। নিজের জমানো টাকা দিয়ে কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য কিনেছিলেন তিনটি গরু। এখন তিনি বিপদে।

গতকাল বুধবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নিজের ঘরে কোমর সমান পানি উঠে যাওয়ার কারণে তাঁর বড় ভাইয়ের ঘরে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন সমছুল হক। এক সপ্তাহ থেকে তিনি বড় ভাইয়ের ঘরে। কোনো ত্রাণসামগ্রী তাঁদের কাছে কেউ নিয়ে যায়নি। এক সপ্তাহ থেকে এক বেলা খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তাঁরা।

সমছুল হকের স্ত্রী আমিনা বেগম বলেন, ‘আইজ এক সাপ্তাহ থাকি ঘরও কোমরপানি। রান্দার চুলাও পানির নিচে। লাগা বাড়ির একজনের চুলাতে এক বেলা রান্দিয়া আনি। কোনমতে জীবন লইয়া বাচিয়া আছি। আমি নিজে অসুস্থ। পুয়াও রুজিত নায় টমটম বন্ধ। ঘরর সব জিনিস নষ্ট ওই গেছে। সরকারি কোনো ত্রাণ বা সহযোগিতাও পাইছি না। কিলা সামনের দিন যাইব, বুজিয়ার না কোনতা। ’

কথা হয় একই গ্রামের অলিউর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, এক সপ্তাহ ধরে ঘরে কোমর সমান পানি। এলাকা কেউ তাঁদের খোজ নিতে আসেনি। তাঁর পারিবারকে পাঠিয়েছেন অন্য গ্রামের আত্মীয়ের বাড়িতে। তিনি পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী। বাড়ি থেকে বের হতে বুক সমান পানি হেঁটে পাড়ি দিতে হয়। তাই বাজারে যেতে না পারায় তাঁর ব্যবসা বন্ধ। কোনো ত্রাণ বা সহযোগিতাও এখনো পাননি।

 



সাতদিনের সেরা