kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

ছোট বিষয় সামলাতে পারেন না জনসেবা করবেন কিভাবে

ইউএনওকে হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নোটিশ জারিকারকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বিচারের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমকে ভর্ত্সনা করেছেন হাইকোর্ট। তাঁকে আইন-আদালতের বাধ্যবাধকতা ও মর্যাদার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে ভবিষ্যতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সতর্কও করেছেন আদালত।

আদালত বলেন, ‘আপনি যে আচরণ করলেন তা সভ্য রাষ্ট্রে কলঙ্ক হয়ে লেগে থাকবে। আপনি একটি ছোট বিষয় সামলাতে পারেন না, জনসেবা করবেন কিভাবে?’

হাইকোর্টের এ ভর্ত্সনার কারণ হিসেবে জানা যায়, ‘ছরোয়ার শেখ বনাম সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী’ মামলাটি ফরিদপুরের বোয়ালমারী জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন।

বিজ্ঞাপন

এ মামলার নোটিশ জারির জন্য ফরিদপুর জেলা জজ আদালতের নেজারত শাখার জারিকারক কামাল হোসেন ও মেহেদী হাসান গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যান। ওই কার্যালয়ের অফিস সহকারী উকিল হোসেনকে নোটিশটি গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেন তাঁরা। কিন্তু নোটিশ গ্রহণ না করে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে তাঁদের অপেক্ষায় রাখেন তিনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও যখন কেউ নোটিশ গ্রহণ করছিল না, তখন জারিকারকরা চলে আসার জন্য উদ্যত হন এবং নোটিশ গ্রহণ না করার বিষয়টি আদালতকে জানাবেন বলে জানান। এরপর তাঁদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয় এবং এক পর্যায়ে উকিল হোসেন নোটিশটি বুঝে নেন। অফিসের এক কর্মচারী বিষয়টি ইউএনও রেজাউল করিমকে জানালে তিনি জরিকারকদের তাঁর কক্ষে ডেকে নিয়ে দরজা আটকে দেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, অফিস স্টাফদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ইউএনও জারিকারকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়ার হুমকি দেন। এমনকি ইউএনও জারিকারকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন, তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিতে বলেন। শেষ পর্যন্ত জোর করে মুচলেকা নিয়ে দুই জারিকারককে ছাড়েন ইউএনও।

বিষয়টি জেনে ফরিদপুরের বোয়ালমারীর জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ আদালতের বিচারক ইউএনওর কাছে  ঘটনার ব্যাখ্যা চান। পরে ঘটনার বিশদ বর্ণনা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে চিঠি লেখেন ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ। সে চিঠি প্রধান বিচারপতির কাছে যায়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি হাইকোর্টে উপস্থাপন করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠায়।



সাতদিনের সেরা