kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১০ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৮ সফর ১৪৪৪

কুমিল্লা সিটি নির্বাচন

বৃষ্টির বাগড়ায় ভোগান্তিতে নারীরা

সরেজমিন

আবদুর রহমান, কুমিল্লা   

১৬ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বৃষ্টির বাগড়ায় ভোগান্তিতে নারীরা

বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোট দিতে যাচ্ছেন এক নারী। গতকাল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ এলাকা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লা নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শুভপুর এলাকার ভোটার সালমা বেগম। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট দিতে গতকাল বুধবার সকাল ৭টায় হারুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তাঁর আগেই সেখানে লাইনে দাঁড়ান অন্তত ৫০ জন নারী। ভোটগ্রহণ চলছিল ধীরগতিতে।

বিজ্ঞাপন

সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর পর ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে কোনো কোনো নারী ভোটারের সময় লেগেছে তিন থেকে পাঁচ মিনিট। এর কারণ, এই নারীদের কেউ ইভিএমে ভোট দিতে অভ্যস্ত নন। আর এত সকালে লাইনে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারেননি সালমা। কারণ, ভোটগ্রহণ শুরুর ৪০ মিনিটের মাথায় নেমে আসে অঝোর ধারায় বৃষ্টি। ওই বৃষ্টির বাগড়ায় মুহূর্তে ভিজে যান সালমা। ফলে ভোট না দিয়ে তিনি ফিরে যান বাড়ি।

গতকাল রাতে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে পরাজিত প্রার্থী সাক্কু।      ছবি : কালের কণ্ঠ

সকাল ৯টার দিকে কেন্দ্রের সামনে কথা হয় সালমার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পুরো ভিজে গেছি। এ অবস্থায় ভোট দেওয়া সম্ভব না। তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। পরে এসে আবার ভোট দেব। ’

গতকাল সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ভোটের শুরুটা ভালোই ছিল। কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ভোট শুরুর ৪০ মিনিটের মাথায় বাগড়া বসায় বৃষ্টি। ভোটার সালমা বেগমের মতো ভোগান্তিতে পড়েন অসংখ্য নারী ভোটার।

বৃষ্টি শুরু হলে সকাল ৯টার দিকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুল মাঠের লম্বা লাইন ভেঙে ভোটাররা আশ্রয় নেন বারান্দায়। নগরীর রানী দীঘির পাড়ের ভিক্টোরিয়া কলেজ কেন্দ্রেও একই অবস্থা দেখা গেছে।

বৃষ্টি শুরুর পর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বজ পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল, সেখানে ভোটারের লাইনে দাঁড়িয়ে অন্যদের সঙ্গে ভিজছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আনোয়ার হোসেন।

তিনি বললেন, ‘ভোট দিতে যেহেতু এসেছি, ভোট দিয়েই যাব। বৃষ্টি থামার পর আবার এসে লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর পরীক্ষা দিতে রাজি নই আমি। ’

আবহাওয়া খারাপ হতে পারে আগেই সেটা জানা ছিল। আষাঢ়ের প্রথম দিন বলে কথা। নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঠাকুরপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াকুব শহরের রানীরবাজার এলাকার মডার্ন স্কুল কেন্দ্রে যখন পৌঁছালেন, তখনো আবহাওয়া ভালোই ছিল। তিনি কেন্দ্রে প্রবেশের পর নামল বৃষ্টি। কিন্তু তাঁর ছেলে ফয়জুল মোবারক সাকির ভাগ্য মন্দ। তাঁর ভোট ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ফয়জুন্নেছা কলেজ কেন্দ্রে। সেখানে পৌঁছাতে একটু দেরি হওয়ায় তাঁকে কাকভেজা হতে হলো।

বৃষ্টি থামলে সকাল ১০টার পর ফের কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন ভোটাররা। নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিসমিল্লাহ কিন্ডারগার্টেন কেন্দ্রে বিকেল ৩টার দিকে কথা হয় ওই ওয়ার্ডের সাহাপাড়া গ্রামের গৃহিণী রজ্জব বেগমের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘সকালে ভোট দিতে এসে দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও বৃষ্টির কারণে ভোট দিতে পারিনি। এখন আবার ভোট দিতে এসেছি। ’

গতকাল রাতে বিজয়ী মেয়র রিফাতের বাসায় এমপি বাহাউদ্দিন বাহার (বাঁয়ে)।           ছবি : কালের কণ্ঠ

ওই ওয়ার্ডের তেলিকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার শাহ আলম মিয়া বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৭টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। আর ভোট দিয়েছি সকাল সাড়ে ১০টায়। এর মধ্যে বৃষ্টিতেও ভিজেছি। ইভিএমের ধীরগতির কারণে দিনভর মানুষের ভোগান্তির শেষ ছিল না। এর পরও বলব, আমরা নিজেরা নিজের ভোট দিতে পেরেছি। এটাই আনন্দের। ’

ভোট খুঁজতে ভোটাররা দিশাহারা

ভোট শুরুর পর সকাল ৯টার দিকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নবাব ফয়েজুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন বয়োবৃদ্ধ হোসনে আরা। এক বুথে ভোট দিতে গিয়ে দেখেন তাঁর ভোট অন্য বুথে। সেখানে গিয়েও নিজের নাম পাননি।

এভাবে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে খোঁজাখুঁজি করেও নিজের বুথ খুঁজে পাননি হোসনে আরা। সকাল সোয়া ১০টায় বিরক্ত হয়ে এই বয়োবৃদ্ধ নারী বলেন, ‘গত নির্বাচনে এই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছি। এবার কেন্দ্র খুঁজতে গিয়ে দিশাহারা অবস্থা। ’

প্রায় একই অবস্থায় পড়েন ষাটোর্ধ্ব নার্গিস সুলতানা। সকাল ১০টায় তিনি মেয়ে জারিন সুবাহ রিসতাকে নিয়ে আসেন নগরীর ওয়াডব্লিউসিএ স্কুল ভোটকেন্দ্রে। নাম খুঁজতে গিয়ে তিনি দেখেন সেখানে তাঁর ভোট নেই।

 

 



সাতদিনের সেরা