kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

প্রচারণা শেষ, অভিযোগ বিস্তর

কুমিল্লা সিটি নির্বাচন

এস এম আজাদ ও আবদুর রহমান, কুমিল্লা থেকে   

১৪ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রচারণা শেষ, অভিযোগ বিস্তর

মাথার ওপর পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে সড়ক। গতকাল কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বর এলাকায়। ছবি : লুত্ফর রহমান

কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে গতকাল সোমবার শেষ প্রচারণার দিনে মাঠে নামেননি বিএনপিপন্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী টেবিল ঘড়ি প্রতীকের মনিরুল হক সাক্কু। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ও বিএনপিপন্থী আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের নিজাম উদ্দিন কায়সার বিকেল থেকে সীমিত আকারে প্রচারণা চালিয়েছেন। রিফাত বিকেলের পর থেকে রাত পর্যন্ত নগরীর ২, ৯, ১০ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে পথসভা ও উঠান বৈঠক করেছেন।

এর আগে সকালে রানীর দিঘির পারে অবস্থিত প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আরফানুল হক রিফাত সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনে কয়েক কোটি কালো টাকা ছড়ানো শুরু করেছেন সাক্কু।

বিজ্ঞাপন

তিনি কালো টাকা ছড়িয়ে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছেন। এমনকি সাক্কু আমার কর্মীদেরও কালো টাকা দিয়ে কেনার চেষ্টা করছেন। আমি এ জন্য কারো কাছে অভিযোগ দেব না। জনগণ এঁদের প্রতিহত করবে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিষয়ে রিফাত বলেন, বাহার ভাইয়ের জন্ম কুমিল্লার মাটিতে। তিনি কুমিল্লায়ই থাকবেন। আপনারা কি দেখেছেন বাহার ভাইকে নির্বাচনী কোনো প্রচারণায় অংশ নিতে। ’

বিএনপিপন্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী টেবিল ঘড়ি প্রতীকের মনিরুল হক সাক্কু গতকাল ভোটের প্রচারণায় নামেননি। তিনি নগরীর নানুয়ার দিঘির পারে অবস্থিত নিজ বাসভবনে দিনভর নেতাকর্মীদের সঙ্গে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘রিফাত তো এমপির নমিনি। সে তো কিছু না। সব করছেন স্থানীয় এমপি। আমি এমপি বাহারকেই প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছি। নৌকার প্রার্থী দিশাহারা হয়ে এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করেই চলেছেন। ’

বিএনপিপন্থী আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের নিজাম উদ্দিন কায়সার গতকাল বিকেল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত ছিলেন। রাত পর্যন্ত নগরীর ১৭ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে  উঠান বৈঠক ও পথসভা করেছেন।

এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনে কোটি কোটি কালো টাকা ছড়ানো হচ্ছে। রিফাত ও সাক্কু এসব কালো টাকা ছড়াচ্ছেন। এরই মধ্যে কুমিল্লার মানুষ সব বুঝে গেছে। ভোটাররা এবার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেবেন।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নাগরিক ফোরামের সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান বাবুল (হরিণ প্রতীক) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাশেদুল ইসলাম (হাতপাখা) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল এই দুই প্রার্থীকে নগরীতে প্রচার-প্রচারণা চালাতে দেখা যায়নি।

নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী বলেন, ‘গতকাল মধ্যরাতে প্রচার-প্রচারণা শেষ হচ্ছে। আশা করছি, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অভিযোগ আমরা খতিয়ে দেখছি। ’

এদিকে নগরীর সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দেওয়া শিখতে এসেছেন দেশওয়ালী পট্টির তরুণী চম্পা রানী (২২)। ভোট দেওয়া শিখে তিনি বলেন, ‘সমস্যা না হলে ৩০ সেকেন্ড লাগবে না। তাই একটু দেখে ভোট দিতে হবে। প্রথমবার তো, তাই হয়তো সময় লাগবে। ’

মহিলা কলেজ রোড এলাকার নাজমা আক্তার সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের কাছে জানতে চান, ভুল হলে কী করবেন তিনি। দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা তাঁকে বলেন, পছন্দের বোতামে দ্বিতীয়বার চাপতে হবে। তবে তিনবার চাপ দিলে আর একটি পদে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। তিনটি পদের (মেয়র, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর) ভোটের জন্য তিনটি মেশিন থাকবে।

গতকাল মধ্যরাত থেকে শেষ হয়েছে ১৮ দিনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। আজ নির্বাচন কমিশনের শেষ দফার প্রস্তুতি শেষে আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে কুসিক নির্বাচন। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা মেয়র প্রার্থীরা গতকাল পর্যন্ত একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন।

আইন প্রণেতা হয়ে আইন ভাঙলে লজ্জা

গতকাল সকালে নগরীর বাদুড়তলা এলাকায় নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে নির্বাচনে ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারদের নিয়ে ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। সেখানে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান ও রাশেদা সুলতানা, যুগ্ম সচিব (আইন) মাহবুবার রহমান সরকার, ইভিএম প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কর্নেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল তালুকদারও রিটার্নিং অফিসার শাহেদুন্নবী চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান পরে সাংবাদিকদের বলেন, সুষ্ঠু ভোটের জন্য যা যা করা দরকার সবই করা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কেউ অনিয়মে জড়িত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার একজন জনপ্রতিনিধি। উনারা আইন প্রণয়ন করেন। যদি উনারাই আইন না মানেন, তাহলে আর কী বলব! উনাকে তো আর আমরা টেনে-হিঁচড়ে নামাতে পারি না। এখানে ইজ্জত গেল কার, আপনারাই বুঝুন। ’



সাতদিনের সেরা