kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

আর্সেনিকযুক্ত পানিই পান করতে হচ্ছে

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১৩ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আর্সেনিকযুক্ত পানিই পান করতে হচ্ছে

ধুনট উপজেলার ভূতবাড়ী গ্রামে আর্সেনিকযুক্ত নলকূপের পানি সংগ্রহ করছেন এক নারী। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার ধুনট উপজেলার ১১ হাজার ৬১৮টি নলকূপ পরীক্ষা করে ১২১টির পানিতে অতিমাত্রায় আর্সেনিক পাওয়া গেছে। এগুলোকে লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পানি ব্যবহার ও পান না করার জন্য বলা হয়েছে, কিন্তু এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না।

ভূতবাড়ী গ্রামের ফিরোজা খাতুনের বাড়ির নলকূপের পানিতে অতিমাত্রায় আর্সেনিক পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্বেচ্ছাসেবকরা নলকূপটিতে লাল রং দিয়ে চিহ্ন দিয়েছেন, কিন্তু বিকল্প পানির উৎস না থাকায় ওই নলকূপের পানি পান করতে হচ্ছে পরিবারটিকে।

বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভূতবাড়ী গ্রামে আর্সেনিকযুক্ত নলকূপের পানি সংগ্রহ করা হচ্ছে।             ছবি : কালের কণ্ঠ

এ বিষয়ে ফিরোজা জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে নলকূপের পানি ব্যবহার করছেন। কোনো সমস্যায় পড়েননি। আর্সেনিক থাকার খবর জানার পরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ওই পানিই সাংসারিক কাজে ব্যবহার করছেন।

তিনি বলেন, ‘এখন কিছুটা ভয় লাগছে। ’

ভূতবাড়ী গ্রামের লিটন মাহমুদ বলেন, ‘জানতাম না বাড়ির নলকূপের পানিতে আর্সেনিক রয়েছে। পরীক্ষার পর বিষয়টি জেনেছি। জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা ওই কলের পানি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। বিকল্প পানির ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে তা ব্যবহার করছি। জানি না এর ফলে কী হতে পারে। ’

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ‘আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন’ প্রকল্পের আওতায় বিনা মূল্যে উপজেলার ২৫ হাজার নলকূপের পানিতে আর্সেনিক পরীক্ষার কাজ ২০২১ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে। এই কাজ শেষ হবে ২০২৩ সালের ৩০ জুন। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবকরা পানি সংগ্রহ করছেন। আর্সেনিক ফিল্ড কিট টেস্টের মাধ্যমে পানিতে আর্সেনিক রয়েছে কি না, তা নির্ণয় করা হচ্ছে। পরীক্ষার ফল লিখে তা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। তবে কিট সংকটের কারণে প্রায় তিন মাস ধরে পরীক্ষার কাজ বন্ধ রয়েছে।

আর্সেনিক ফিল্ড কিট টেস্টের কাজ করা আব্দুর রাজ্জাক জানান, ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নে বেশির ভাগ নলকূপের পানিতে আর্সেনিক পাওয়া যাচ্ছে। বিপদ জেনেও অনেক পরিবার ওই পানি ব্যবহার করছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ধুনট উপজেলা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী রোজিনা আকতার সুমি বলেন, ‘দেশের বাইরে থেকে আর্সেনিক পরীক্ষার কিট আনতে হয়। কিট সংকটের কারণে পরীক্ষার কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে কিট সংগ্রহের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ’ এর মধ্যে যাদের নলকূপের পানিতে আর্সেনিক পাওয়া গেছে, তাদের ওই পানি ব্যবহার না করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যারা আর্সেনিকযুক্ত পানি ব্যবহার করছে, তারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে।



সাতদিনের সেরা