kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৯ সফর ১৪৪৪

বাজেটে শিশুদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজেটে শিশুদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির তাগিদ

বাংলাদেশের জনসংখ্যার পাঁচ ভাগের দুই ভাগ শিশু। গত দুই বছর করোনাকালে বাল্যবিবাহসহ বেড়ে যায় শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া শিশুর সংখ্যা। এ পরিস্থিতিতে শিশুদের ক্ষতির বিষয়টি মাথায় রেখে আগামী বাজেট প্রণয়নে কথা বলছেন বিশেষজ্ঞ ও খাত বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে ২০৪১ সালের লক্ষ্য পূরণের জন্য শিশুদের যে ভূমিকা তা স্বীকার করে বাজেটে সে অনুযায়ী বরাদ্দ রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের সরকারি ব্যয়ে শিশুদের জন্য বরাদ্দ’ শিরোনামে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ তাগিদ দেন। বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।

মূল প্রবন্ধে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ শিশু। ২০৪১ সালের ভিশন বাস্তবায়নে আমাদের শিশুদের জন্য বাজেটে আলাদাভাবে বরাদ্দ করা প্রয়োজন। শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেশি করে বিনিয়োগ না করলে যে ক্ষতি হবে তা জাতি হিসেবে পুষিয়ে নেওয়া কখনো সম্ভব হবে না। বর্তমানে বাজেটে শিশুদের জন্য যা বরাদ্দ হয়, তার মাত্র ১ শতাংশ তাদের অধিকার রক্ষায় ব্যয় হয়। বরাদ্দের ৬১ শতাংশ ব্যয় হয় শিক্ষায়, ১৩ শতাংশ ব্যয় হয় সামাজিক সুরক্ষায়, ১২ শতাংশ ব্যয় হয় স্বাস্থ্যে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সরকারের ২০১৮ সালের ‘প্রস্ফুটিত শিশু’ প্রতিবেদনে শিশুদের জন্য বাজেট বরাদ্দ মোট সরকারি ব্যয়ের ১৫ শতাংশ থেকে ক্রমান্বয়ে ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছিল। আগামী বাজেটে তার প্রতিফলন অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি শিশুদের জন্য নির্ধারিত বাজেট প্রত্যেক বিভাগ ও মন্ত্রণালয়কে যথাযথভাবে প্রস্তুত ও প্রকাশ করতে হবে। তাদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য সক্ষম করে গড়ে তুলতে হবে আমাদেরকেই। ”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আরমা দত্ত বলেন, ‘শিশুদের অধিকারের কথা তারা নিজেরা বলতে পারে না। তাই তাদের কথা যারা বলে, বিশেষ করে মায়েদের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করতে হবে। আমাদের জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে শিশুদের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। শিশুদের কল্যাণে বাজেটে কী ঘাটতি রয়েছে, তা বের করে সঠিক পরিকল্পনায় এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের বস্তিতে বসবাসরত শিশুদের জন্য ভাবতে হবে। তাদের জাতীয় অর্থনীতিতে যুক্ত করতে হবে। ’

প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের উন্নয়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমরা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো করছি। যদিও করোনাকালীন আমরা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। বাল্যবিবাহ রোধে জেলা-উপজেলা এমনকি গ্রাম পর্যায়ে নানা কার্যক্রম চলছে। ’ এ ব্যাপারে তিনি সমাজের প্রত্যেক নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নানা রাজনৈতিক ইস্যুতে বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিই। হরতাল-বিক্ষোভ করে সমাজকে অশান্ত করে তুলি, যা উন্নয়নের অন্তরায়। এদিক দিয়ে আমরাও তাদের অধিকার খর্ব করছি। আমাদের সরকার সামাজিক শান্তি ও উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করছে। কারণ আমাদের রয়েছে দৃঢ় নেতৃত্ব। ’

গোলটেবিল বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পরিচালক (গার্লস রাইটস) কাশফিয়া ফিরোজ প্রমুখ।

 



সাতদিনের সেরা