kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

গোপালভোগে জমেছে আমের বাজার

রাজশাহীর বানেশ্বর হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গোপালভোগে জমেছে আমের বাজার

বাগান থেকে আম নিয়ে জড়ো করছেন চাষিরা। গতকাল রাজশাহীর পুটিয়ার বানেশ্বর হাটে। ছবি : কালের কণ্ঠ

গোপালভোগ আমে মেতেছে রাজশাহীর বাজার। গত ২০ মে থেকে রাজশাহীর বাজারে গোপালভোগ আসতে শুরু করার পর থেকেই ক্রেতারাও ছুটছেন এর পেছনে। এর পাশাপাশি গুটি আমও রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাজশাহীর বৃহৎ আমের বাজার বানেশ্বর হাট ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে প্রচুর পরিমাণে আম জমা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনায় মুখরিত বাজার। সকাল ১০টার পর থেকেই বাজারে আম আসতে শুরু করে। বেচাকেনা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা আম নিয়ে দর-কষাকষিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ দাম হাঁকাচ্ছেন, তো কেউ কিনে নিয়ে আড়তে ঢুকাচ্ছেন। এরপর সেই আম বাছাই করে প্যাকেটজাত করছেন শ্রমিকরা। সেই প্যাকেট ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোথাও কোথাও অপেক্ষা করছে ট্রাক।

এ বাজারে আম বিক্রি করতে আসা বাঘার চাষি আহসান আলী মুন্না বলেন, ‘এবার আম বিক্রি করে খুব শান্তি পাচ্ছি। বাজারে চাহিদা আছে। দামও ভালো। গতবার আম নিয়ে এসে বসে থাকতে হতো। তেমন পার্টি (ক্রেতা) পাওয়া যেত না। বসে থেকে থেকে আশানুরূপ দাম না পেয়েও বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে হতো। এ বছর যদিও আমের ফলন অনেকটা কম। তবে ভালো দাম পাওয়ায় সেটি পুষিয়ে যাচ্ছে। ’

বাজারের আম ব্যবসায়ী নাজিরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার গুটি আমই এখন কিনতে হচ্ছে অন্তত এক হাজার ২০০ টাকা মণ দরে। গতবার এই সময়ে গোপালভোগ পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা মণ। আর গুটি ছিল ৫০০-৬০০ টাকা মণ। এবার আমের পরিমাণ কম, আবার চাহিদাও আছে বেশ ভালো। তাই দামও আছে ভালো। ’

ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, বানেশ্বর বাজারে রাজশাহী ও নাটোরের অন্তত ২০টি উপজেলা থেকে আম আসে। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ ট্রাক আম আসছে বাজারে। সেগুলো বেচাকেনা শেষে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে। গতকাল এই বাজারে প্রতি মণ গুটি আম (৪৫ কেজিতে মণ) বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা। আর গোপালভোগ বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা দরে।

এদিকে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলীম কালের কণ্ঠকে জানান, এবার রাজশাহীতে ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন, যা গতবারের চেয়ে আড়াই হাজার মেট্রিক টন বেশি। আর এটি হলে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এ বছর শুরু থেকেই গাছে গাছে মুকুলের পরিমাণ কম থাকা এবং টানা খরার কারণে প্রচুর পরিমাণ আমের মুকুল এবং গুটি আম ঝরে গেছে। ফলে এবার আমের ফলন অনেকটা কম হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

 



সাতদিনের সেরা