kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

করোনাকালে ২৪ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী মানসিক সমস্যায় ভুগেছেন

করোনাকালে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব, কুশলাবস্থা, সংশ্লিষ্ট ফ্যাক্টরসমূহ এবং মানিয়ে নেবার কৌশল বিষয়ে ১৩৯৪ জন স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর গবেষণাটি পরিচালিত হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দেশে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রমিতদের চিকিত্সায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ২৩.৫০ শতাংশ পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিস-অর্ডারে (পিটিএসডি) আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর মধ্যে চিকিত্সকদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়েছিল। জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিত্সা প্রতিষ্ঠান নিপসমের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নিপসম মিলনায়তনে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেন নিপসম পরিচালক অধ্যাপক বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থায়নে এই গবেষণা পরিচালনা করে নিপসম। অধ্যাপক রিয়াজ এই গবেষণাদলের নেতৃত্ব দেন।

‘বাংলাদেশে কভিড-১৯ মহামারিকালে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর এর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব, কুশলাবস্থা, সংশ্লিষ্ট ফ্যাক্টরসমূহ এবং মানিয়ে নেবার কৌশল’ শিরোনামে এক হাজার ৩৯৪ জন স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর পরিচালিত গবেষণাটি ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়ে শেষ হয় জুনে।

এর মধ্যে ৫৯৬ জন চিকিত্সক, ৭১৩ জন নার্স এবং ৮৫ জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ছিলেন।

গবেষণায় বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের মধ্যে চিকিত্সকরাই বেশি পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিস-অর্ডারে ভুগেছেন। এরপর রয়েছেন টেকনোলজিস্ট ও নার্স। টেকনোলজিস্টদের মধ্যে এই হার ২৩.৫০ শতাংশ এবং নার্সদের মধ্যে হার ২২.৮০ শতাংশ।

যাঁদের সাক্ষাত্কার নেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৬২.৯ শতাংশেরই পিটিএসডি ছিল। তাঁদের মধ্যে ৮৩.৬ শতাংশ ছিলেন বিবাহিত। এই ৮৩ শতাংশের মধ্যে নারীদের পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিস-অর্ডারের ঝুঁকি ছিল বেশি।

অধ্যাপক বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজ বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের কাজের চাপ অনেক বেশি ছিল। তাঁরা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাসামগ্রীর (পিপিই) অপ্রতুলতায় ছিলেন এবং করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে ছিলেন। পিটিএসডি আক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা পেশাদাররা সবার কাছ থেকে দূরে থাকতে পারেন বা চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন। তাঁদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা থাকতে পারে। ’

জরিপের গবেষণায় স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের মানসিক সুস্থতায় কাউন্সেলিং প্রগ্রামের ব্যবস্থা জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব সাইফুল হাসান বাদল। আরো উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ এইচ এম এনায়েত হোসেন।

 



সাতদিনের সেরা