kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বাসে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা

চট্টগ্রামে বাসচালক ও সহকারী গ্রেপ্তার

নিজেকে রক্ষায় চালককে ঘুষি মেরে লাফ দিয়েছিলেন ভুক্তভোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়া থানার রাহাত্তারপুল এলাকায় চলন্ত বাসে এক পোশাককর্মীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় বাসচালক ও সহকারীকে (হেলপার) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে বাসচালক আনোয়ার হোসেন টিপুকে (২২) হাটহাজারী ও সহকারী জনি দাশকে (২০) নগরের সিঅ্যান্ডবি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে বাসটি জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আনোয়ার চন্দনাইশ উপজেলার দেওয়ানহাট গ্রামের বাছা মিয়ার ছেলে এবং জনি পটিয়া উপজেলার আলামপুর কেলিশহর গ্রামের মিঠুন দাশের ছেলে।

বিজ্ঞাপন

তাঁরা দুজনই কর্মসূত্রে মহানগরে বাস করেন। ঘটনার দিন তাঁরা কম্পানির ভাড়া বাসের বদলি চালক-সহকারী হিসেবে বাস চালাচ্ছিলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) নোবেল চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আনোয়ার ও জনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য স্বীকার করেছেন। পরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। জনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আনোয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নোবেল চাকমা জানান, আনোয়ারকে রিমান্ডে চেয়েছে পুলিশ। পরে আদালতে রিমান্ড শুনানি হবে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী তরুণী জানান, তিনি একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। কারখানার ভাড়া করা বাসে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। গত ১৯ মে ডিউটি শেষে ভাড়া করা বাসে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। বাসটি সিঅ্যান্ডবি এলাকা থেক শ্রমিক নিয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে তাঁদের নামিয়ে দিতে থাকে। বাসের সর্বশেষ যাত্রী হিসেবে গন্তব্যস্থলে নামার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। বাসচালক ও সহকারী তাঁকে যথাস্থানে নামিয়ে না দিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসটি শাহ আমানাত সেতুর দিকে নিয়ে যেতে থাকেন। চালক-সহকারী তাঁর সঙ্গে অশোভন আচরণ শুরু করেন। তাঁরা চলন্ত অবস্থায় বাসের বাতি ও জানালাগুলো বন্ধ করে দিচ্ছিলেন। এরই মধ্যে তরুণীর শরীরে ধর্ষণচেষ্টাকারীর হাতের আঁচড় পড়ে। তখন নিজেকে রক্ষায় চালককে ঘুষি মেরে বাস থেকে লাফিয়ে পড়েন তরুণী। লাফ দেওয়ার পর মুহূর্তের স্মৃতি মনে নেই তাঁর। কয়েক দিন পর জ্ঞান ফিরলে নিজেকে তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বিছানায় দেখতে পান। পরে সুস্থ হয়ে বুধবার বাসায় ফেরেন। ঘটনা মাকে জানান। ওই দিনই মা বাকলিয়া থানায় মামলা করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা নোবেল চাকমা বলেন, ঘটনার রাতে সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, একজন বাস থেকে পড়ে গেছে। পরে বাকলিয়া থানার পুলিশ চমেক হাসপাতালে গিয়ে তরুণীর কাছ থেকে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করে।

 

 



সাতদিনের সেরা