kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

সুন্দরবন

পাঁচ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের চার প্রস্তাব

২০১৬ সালের ২৭ মার্চ থেকে ২০১৭ সালের ২৬ মে পর্যন্ত পাঁচবার আগুন লাগে

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)   

২৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাঁচ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে গৃহীত চার প্রস্তাব। বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনে ২০১৬ সালের ২৭ মার্চ থেকে ২০১৭ সালের ২৬ মে পর্যন্ত পাঁচবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অগ্নিকাণ্ডের এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন তৎকালীন প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) ইউনুছ আলী। স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সুন্দরবনকে রক্ষায় ভোলা নদী খনন, লোকালয়ের পাশ থেকে কাঁটাতারের বেষ্টনী, ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন—এই চার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

অন্যদিকে ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর এবং ৩ মার্চ শরণখোলা রেঞ্জের দাসের ভারানী টহল ফাঁড়ির কাছে দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই অগ্নিকাণ্ডের পর ৮ মার্চ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনিও অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলোর ওপর জোর দেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

বিশেষ করে ভোলা নদী ভরাট হওয়ায় যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে অগ্নিকাণ্ডসহ বন অপরাধ, তেমনি বনের বাঘ, হরিণ ও অন্যান্য বন্য প্রাণী অহরহ চলে আসছে লোকালয়ে।

গত সোমবার ভোলা নদী পার হয়ে সুন্দরবন থেকে একটি চিত্রল হরিণ এবং একটি অজগর সাপ বনসংলগ্ন ধানসাগর গ্রামে চলে আসে। পরে হরিণ ও অজগরটি বনরক্ষীরা উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করেন। এর আগে গত ৫ মে শরণখোলার ধানসাগর ইউনিয়নের বনঘেঁষা টগরাবাড়ী গ্রামে চলে আসে একটি বাঘ। বাঘটি বেশ কয়েক দিন আশপাশের গ্রামগুলোয় বিচরণ করে। এতে ১০ গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভোলা নদী শুকিয়ে যাওয়ায় খুব সহজে গ্রামে চলে আসছে এসব বন্য প্রাণী।  

গত পাঁচ বছরে প্রতিশ্রুতিগুলোর একটিও বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে পরিবেশবাদী, স্থানীয় জনগণ এবং বনের বৈধ পেশাজীবীদের। ফের যেকোনো সময় বনে অগ্নিকাণ্ড ঘটার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। বারবার আগুন লাগার পেছনে বেশ কিছু কারণও চিহ্নিত করেছেন তাঁরা। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতি লোভ, বনসংলগ্ন বাসিন্দাদের বনে অবাধ অনুপ্রবেশ, অবৈধভাবে মাছ শিকার ও মধু আহরণ এবং বন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া। প্রতিবছর ঘুরেফিরে বনের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় আগুন লাগায় কারণে এই বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তাঁদের কাছে। সুন্দরবন সুরক্ষায় আগে গ্রহণ করা প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন এবং বন আইন সংশোধন করে চলমান মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ করেছেন তাঁরা।

বন সুরক্ষায় নিয়োজিত কমিউনিটি প্যাট্রলিং গ্রুপের (সিপিজি) ভোলা টহল ফাঁড়ির দলনেতা খলিল জমাদ্দার, দাসের ভারানী টহল ফাঁড়ির দলনেতা ইয়াসিন হাওলাদার এবং দাসের ভারানী ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের দলনেতা দুলাল চাপরাসি বলেন, ‘অবৈধভাবে মৎস্য ও মধু আহরণকারীরাই বনে আগুন লাগায়। ধানসাগর স্টেশনের বন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একেকটি খাল ও বিল মৌসুমে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় উেকাচ নিয়ে প্রভাবশালীদের কাছে লিজ দেন। তাঁদের নির্দিষ্ট লোকের বাইরে অন্য কোনো জেলে পাস নিয়ে গেলেও তাঁদের সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয় না। ধানসাগর স্টেশনের আওতাধীন বনে এটা যুগ যুগ ধরে চলছে। ’

সুন্দরবন সহব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) শরণখোলা উপজেলার সহসভাপতি এম ওয়াদুদ আকন বলেন, ‘ধানসাগর স্টেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর লোভের কারণে বারবার পুড়ছে বন। আগুন লাগা বন্ধ করতে হলে অবৈধ মধু আহরণ ও মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে। ’

সুন্দরবন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দো বলেন, ‘সুন্দরবনে অবাধ প্রবেশ ঠেকাতে এবং বাঘ, হরিণসহ বন্য প্রাণী যাতে লোকালয়ে আসতে না পারে সে জন্য বাঘ সংরক্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০ কিলোমিটার নাইলনের নেট দিয়ে ফেন্সিং করা হবে। একই প্রকল্পের আওতায় ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। চলতি বছরের মার্চে এই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। ’

 

 



সাতদিনের সেরা