kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

জবরদখল, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

মোবারক আজাদ   

২৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জবরদখল, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

রাজধানীর ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প অনুমোদনের দুই যুগ পেরিয়েছে। প্রকল্পের চুক্তিমতে ১৫ হাজার ফ্ল্যাট বরাদ্দের কথা থাকলেও হয়েছে মাত্র দুই হাজার। সে হিসাবে ২৪ বছরে প্রায় ১৩ শতাংশ ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। নানা অনিয়মের অভিযোগে এক যুগ ধরে কাজও বন্ধ।

বিজ্ঞাপন

এই সুযোগে প্রকল্পের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, বরাদ্দ পাওয়া ছয়তলা ভবনগুলোর একটা থেকে আরেকটার মধ্যকার জায়গা ময়লায় সয়লাব। বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাসস্থল এই প্রকল্পের ভবনগুলোর ময়লা যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আধানির্মিত প্রায় ১০টি ভবন অনেকটা অরক্ষিত। সেগুলোও বেদখল অবস্থায় আছে। কিছু ভবনে ফাটল ধরেছে। আছে বহিরাগতদের আনাগোনা।

দেখা গেছে, প্রকল্পের পূর্ব-দক্ষিণ পাশের মসজিদ থেকে এফডিসির দেয়াল পর্যন্ত প্রকল্পের টিনের বেড়া ভেঙে সেখানে শতাধিক দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, এসব দোকান তৈরি করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় ৩৪ সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে পুনর্বাসন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ভাসানটেক থানায় জিডিসহ একাধিকবার অভিযোগ করলেও কোনো কাজ হয়নি।

প্রকল্পের ফ্ল্যাট মালিক এমন অনন্ত ১৫ জনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁরা জানান, যাঁরা এই প্রকল্পের জায়গা দখল করেছেন তাঁরা কেউ এখানকার বাসিন্দা নন। ভাসানটেক থানার পুলিশ এসব দেখেও না দেখার ভান করছে। এতে প্রকল্পের বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

প্রকল্পের ভেতরে যত্রতত্র দখল ও ময়লা থাকার বিষয়ে ফ্ল্যাট মালিক ফজলুর রহমান বলেন, এখানে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই কোনো শৃঙ্খলা নেই। কারণ তারা যদি সঠিক তদারকি ও নজরদারির মধ্যে রাখত তাহলে কেউ যত্রতত্র ময়লা ফেলতে পারত না, এমনকি কেউ দখলদারির সুযোগ পেত না।  

জানা গেছে, চুক্তিপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে বস্তিবাসীকে ফ্ল্যাট না দিয়ে মনগড়াভাবে অবৈধ পন্থায় কিছু ধনী ব্যক্তিদের নামে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য নিয়ে সেগুলো বিক্রি শুরু করলে বস্তিবাসী আন্দোলন-সংগ্রাম করে। আন্দোলনের মুখে ২০১০ সালের ১২ অক্টোবর এনএসপিডিএলের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে সরকার। পরে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয় ভূমি মন্ত্রণালয়।

প্রকল্পের ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রকল্পের ভেতর খালি জায়গা এখানকার বাসিন্দাদের নাগরিক সুবিধার জন্যই রাখা। এটি কারো দখলদারির জন্য নয়। আর আমরা শৃঙ্খলায় আনার জন্য আবার কাজ করছি। আর এ প্রকল্পের বাকি কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান রইল। ’

ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্পের হিসাবরক্ষক তপিন হাসান বলেন, ‘গত ১৫ মার্চ এসব দখলদারিসহ নিরাপত্তাসংক্রান্ত পরিস্থিতি তুলে ধরে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় জিডি করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। ’

প্রকল্পের বাসিন্দা নিলুফার আক্তার নীলা বলেন, ‘শুনেছি নতুন ওসি এসেছেন। আগের ওসির এসব দখলদারির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি। আশা করি নতুন ওসি এসব দখলদারির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। ’

গতকাল সন্ধ্যায় দখলদারির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভাসানটেক থানার ওসি আবুল বাসার মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি আজ নতুন জয়েন দিয়েছি এই থানায়। দখলদারির অভিযোগ ও জিডির বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নেব, এ ধরনের ঘটনা থাকলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’



সাতদিনের সেরা