kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আগস্ট ২০২২ । ৪ ভাদ্র ১৪২৯ । ২০ মহররম ১৪৪৪

‘মাসে একবারও মাছ-মাংস দিয়া ভাত খাই না’

বারবার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে কোদালকাটি চরের বাসিন্দারা

কুদ্দুস বিশ্বাস, কুড়িগ্রাম (আঞ্চলিক)   

২৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ঈদে এক বেলা মাংস দিয়া ভাত খাইছিলাম। এরপর আর মাংসের চোপা দেহি নাই। আমগর মতো গরিব মাইনসের মাসে একবারও মাছ-মাংস দিয়া ভাত খাওয়া হয় না। আমরা কামলা দিয়া খাই।

বিজ্ঞাপন

যেদিন কেউ কামলা নেয় না, সেদিন ধারকর্জ করা ছাড়া কোনো উপায় থাহে না। ’ কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন কোদালকাটি চরের কোহিনুর বেগম। গতকাল মঙ্গলবার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

বারবার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে এই চরের বাসিন্দারা। কোহিনুর বেগমের স্বামী আইয়ুব আলী একজন দিনমজুর। তাঁদের কোলজুড়ে রয়েছে পাঁচ সন্তান।

কেমন আছেন—এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোহিনুর বেগম নিঃশ্বাস ছেড়ে বলেন, ‘পোলামান নিয়া যে কষ্টে আছি, তা আল্লাহ মাবুতই ভালো জানে। আমগর মতো মাইনসের তরকারিতে কোনো তেল লাগে না। কচুশাক আর লতাই আমগর তরকারি। বেশির ভাগ সময় পান্তা ভাত খাই। এবা কইরাই চলে আমগর জীবন। ’

দিনমজুর আইয়ুব আলী বলেন, ‘গেল বছর নদে বাড়ি ভাইঙা যাবার পর এই চরে ঘর তুলছি। জমির মালিক বারবার বাড়ি সরাবার কইতেছে। মাইনসে মেলা রিলিফ পায়, কিন্তু আমরা পাই না। মেম্বারগো ট্যাহা দিবার পারি না বইলা আমগর নাম নেয় না। সরকারি কোনো সাহায্যই আমরা পাই না। শুনেছি সরকার কম দামে চাইল তেল ডাইল চিনি দেয়, কিন্তু তাতে আমগর নাম নাই। বাচ্চাকাচ্চা নিয়া খাইয়া না-খাইয়া থাহি। ’

সন্তানরা তো পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তাদের মাঝে-মধ্যে দুধ-ডিম খাওয়াতে পারেন কি না—সে ব্যাপারে জানতে চাইলে আক্ষেপের সুরে কোহিনুর বেগম বলেন, ‘এগুলান কেনার ট্যাহা আমগর নাই। শহরের ধনী মানুষগরের খাবার ওগুলান। বছরে দুই ঈদে একবার কইরা মাংস খাবার পারি। তা ছাড়া মাছ-মাংসের চোপা আমরা দেহি না। গ্যাদার বাপ যে ট্যাহা কামাই করে, তা দিয়া চাইল কিনতেই শেষ। কমলা-আপেল খাওয়া আমগর কাছে স্বপ্ন। ’ তিনি আরো বলেন, ‘মাইনসে কয় আমগর প্রধানমন্ত্রী মা ও শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য তিন মাস পর পর ট্যাহা দিচ্ছে। আমগর নামটা নেওয়ার জন্য এক মাস ধইর‌্যা মেম্বারের কাছে ঘুরছি। চার হাজার ট্যাহা চাইছিল, কিন্তু তহন দিবার পারি নাই দেইখ্যা নামও নেয় নাই। ’

কোদালকাটি চরের স্কুল শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, ‘আইয়ুব আলীর পরিবারটি খুবই অভাবে আছে। তাদের সরকারি কোনো সাহায্য-সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। কে গরিব আর কে ধনী তা মেম্বার-চেয়ারম্যানরা দেখেন না। তাঁরা শুধু টাকা চেনেন। ’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোদালকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের ৮০ শতাংশ মানুষই দরিদ্র্যসীমার নিচে। তাদের সবারই সরকারি সহায়তা পাওয়া উচিত। আইয়ুব আলীর পরিবারের ব্যাপারে আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। এখন পর্যন্ত তারা যদি সরকারি কোনো সহায়তা না পেয়ে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ’



সাতদিনের সেরা