kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য

আলোচনায় চার বিদেশি দূত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য

বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানের দূতরা। একই সঙ্গে তাঁরা বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করে এমন প্রস্তাবিত আইনগুলোর বিষয়ে উদ্বেগ জানান।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় ইএমকে সেন্টারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ তাগিদ ও উদ্বেগ জানানো হয়। অনুষ্ঠানে পশ্চিম তীরে নিহত ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিকমানের অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনে গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। অনুষ্ঠানে মূল বক্তা ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ছাড়াও কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলস, জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি, ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার জাভেদ প্যাটেল ও প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বক্তব্য দেন।

রাষ্ট্রদূত হাস বলেন, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের মতো বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো—আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যেন তাদের সরকার বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়। নির্বাচনে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক মান বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ঐকমত্য নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ কার্টার সেন্টারের একটি নীতিমালা অনুসরণ করে বলে জানান পিটার হাস। তিনি বলেন, এই নীতিমালার প্রথমেই আছে, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা সুরক্ষিত এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত হতে হবে। দ্বিতীয়ত, গণমাধ্যম যেন সরকারের সমালোচনা করতে পারে। তৃতীয়ত, গণমাধ্যম যেন অন্যের অসত্য বক্তব্য ছাপতে বাধ্য না হয়। চতুর্থত, সমালোচনা বন্ধ করতে যাতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় খড়গ না আসে এবং পঞ্চমত, সাংবাদিকরা যেন হয়রানি ও সহিংসতার শিকার না হন।

পিটার ডি হাস বলেন, এগুলো ছাড়াও আরো অনেক নীতি যেগুলো বাংলাদেশ ও অন্য দেশগুলোর নির্বাচনের আগে অনুসরণ করা উচিত। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় আমাদের সবার বাধ্যবাধকতা আছে। প্রকৃত গণতন্ত্রের জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ গণমাধ্যম সম্পর্কিত প্রস্তাবিত তিনটি আইন নিয়ে উদ্বেগ জানান।

কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলস বলেন, বাংলাদেশে গণমাধ্যমের নারীরা অনেক চ্যালেঞ্জের শিকার। গণমাধ্যম সেন্সরশিপ, অনেক ক্ষেত্রে সেলফ সেন্সরশিপ করছে। স্বাধীন গণমাধ্যমবিষয়ক বৈশ্বিক জোটের সভাপতি হিসেবে কানাডা বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে কাজ করছে।

জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, গণমাধ্যমসহ সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরো উন্নয়ন প্রয়োজন। তিনি আশা করেন,  বাংলাদেশ যথাযথ উপায়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।

ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার জাভেদ প্যাটেল বলেন, সব দেশেরই কোনো না কোনো চ্যালেঞ্জ আছে। তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগ জানান। সাংবাদিকদের নির্ভয়ে কাজের সুযোগ পাওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

৫২ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে একতা, ভোরের কাগজ, প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের ওপর বিভিন্ন সরকারের চাপের উদাহরণ দিয়ে মতিউর রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতা থেকে যায়, আওয়ামী লীগ আসে। আওয়ামী লীগ যায়, বিএনপি আসে। কিন্তু গণমাধ্যমের ওপর চাপ কমে না।

মতিউর রহমান বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আরো দক্ষ হয়ে উঠেছে। ১৯৭৫ সালের জুনে আওয়ামী লীগ চারটি পত্রিকা ছাড়া সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল। তাঁর নামে ৪২টি মামলা আছে। ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে একসময় ৮২টি মামলা হয়েছিল।

সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা করা কুমিরে ভরা পুকুরে সাঁতার কাটার মতো।



সাতদিনের সেরা