kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আগস্ট ২০২২ । ৪ ভাদ্র ১৪২৯ । ২০ মহররম ১৪৪৪

৪৩ কমিউনিটি ক্লিনিক বেহাল

আমতলী ও তালতলী

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৪৩ কমিউনিটি ক্লিনিক বেহাল

অব্যবহৃত তালতলীর লাউপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক। ছবি : কালের কণ্ঠ

বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার ৪৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনের মধ্যে ৪৩টির অবস্থা বেহাল। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় তা ব্যবহারের প্রায় অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। বেশির ভাগ ভবনের দরজা-জানালা খুলে গেছে, দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। কিছু ভবনের ছাদেও ফাটল ধরেছে।

বিজ্ঞাপন

ফলে বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পড়ছে পানি। এ অবস্থায় রোগীদের সঠিকভাবে সেবা দিতে পারছেন না সিএইচসিপিরা। ফলে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্য ভেস্তে যেতে বসেছে।

আমতলী ও তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে। ফলে আমতলী ও তালতলী উপজেলায় মোট ৪৪টি ক্লিনিক স্থাপিত হয়। এর মধ্যে ২০২১ সালে আমতলীতে ব্যক্তি অনুদানে আরো দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মিত হয়। ফলে মোট ক্লিনিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৬টি। কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের পর ২০০১ সালে বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় এসে এর কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সাত বছর কোনো কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় ভবনগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। আওয়ামী লীগ সরকার ফের ক্ষমতায় এসে ২০০৯ সালে ক্লিনিকগুলো চালু করে।   

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানি বাজারের কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনটির দেয়াল, বিমসহ ধসে পড়েছে। ফলে নিরুপায় হয়ে সিএইচসিপি খেকুয়ানি বাজারের একটি ক্লাবঘরে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তালতলী উপজেলার লাউপাড়া ক্লিনিক ভবনের দরজা-জানালা খুলে পড়ে গেছে। বাধ্য হয়ে গত দুই বছর ধরে সিএইচসিপি পাশের লাউপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে রোগী দেখেন।

এভাবে আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের গেড়াবুনিয়া, সোনাখালী, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের চরকগাছিয়া, ভায়লাবুনিয়া, তারিকাটা, হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া হাট, পশ্চিম চিলা, টেপুরা, চাওড়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া, চন্দ্রা, কাউনিয়া, আমতলী সদর ইউনিয়নের কল্যাণপুর, মানিকঝুরি, চলাভাঙ্গা, গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোজখালী, কুকুয়া ইউনিয়নের চরখালী, তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের কাজির খাল, ছোটবগী ইউনিয়নের সরদারিয়া, শারিকখালী ইউনিয়নের কচুপাত্রাসহ দুই উপজেলার ৪৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।  

তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাকিলা আক্তার বলেন, ‘সংস্কারবিহীন ভবনগুলোর তালিকা করে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। ’ আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ বলেন, ‘অনুপযোগী হয়ে পড়া ভবনগুলো সংস্কারের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ’ 

বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. ফজলুল হক বলেন, ‘তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনগুলো সংস্কার করা হবে। আর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নতুনভাবে নির্মাণ করা হবে। ’



সাতদিনের সেরা