kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

চিত্রকলায় পাহাড়ের সৌন্দর্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চিত্রকলায় পাহাড়ের সৌন্দর্য

রাজধানীর উত্তর বাড্ডার অবিন্তা গ্যালারি অব ফাইন আর্টসে চলছে ‘পাহাড়ের চিত্রবুনন’ শীর্ষক ৪৪ জন শিল্পীর চিত্র প্রদর্শনী। ছবি : সংগৃহীত

পাহাড়ে খেলা করে অপরূপ সৌন্দর্য। ঘন সবুজ বন আর পাখিদের মাঝে যে মানুষেরা বাস করেন, তাঁদের সৌন্দর্যবোধটাও হয় অন্য রকম। এই বাসিন্দাদের হাতেই যদি থাকে চিত্রশিল্পের সব কলাকৌশল, তখন তাঁদের নির্মাণভুবন হয় সৌন্দর্যের ভাণ্ডার। পাহাড়ে জন্ম, পাহাড়েই বেড়ে ওঠা—এমন ৪৪ জন শিল্পীর ৬৫টি শিল্পকর্ম নিয়ে গত শনিবার থেকে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার অবিন্তা গ্যালারি অব ফাইন আর্টসে শুরু হয়েছে চিত্রপ্রদর্শনী।

বিজ্ঞাপন

এই শিল্পীদের প্রায় সবাই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ও চারুকলা কলেজের শিক্ষার্থী। মারমা, রাখাইন, চাকমা, ত্রিপুরা, গারো, হাজং, কোচ ও মণিপুরি শিল্পীদের কাজ আছে এখানে। প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ৪ জুন পর্যন্ত।

পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি পথঘাট, গ্রাম, গবাদি পশু, স্থানীয়দের জীবনযাত্রার বিভিন্ন উপকরণ, মানুষ, তাদের ধর্ম ও আচার উঠে এসেছে শিল্পীদের তুলিতে। বেশির ভাগ শিল্পকর্মই কাগজের ওপর জলরঙে তৈরি।

শিল্পী অমিত কোচের কাঠের তৈরি দুটো মুখোশও জায়গা করে নিয়েছে প্রদর্শনীতে। রাঙামাটি ও কাপ্তাই লেকের বৃষ্টির দৃশ্য জলরঙে এঁকেছেন অংথোয়াই মারমা। বিপীন চাকমা এঁকেছেন পাহাড়ে বাড়ি ফেরার পথ। কাপ্তাইয়ের ভাসমান বাজারের মনোরম চিত্র আছে ফাইবি কুবির শিল্পকর্মে। জয়তু চাকমা তাঁর দুটি চিত্রেই কাগজের ওপর অ্যাক্রেলিকে এঁকেছেন অপেক্ষারত দুই পাহাড়ি নারীকে। কাপ্তাই লেকে জেলেদের মাছ ধরা, বৈসাবি উৎসবে নদীতে তরুণীদের ফুল ভাসিয়ে দেওয়ার রঙিন সংস্কৃতি, বুদ্ধের মুখ বা পরাগ চাকমার আঁকা জুমঘর তো জীবনেরই অংশ।

যে শিল্পীদের তুলিতে এই সব দৃশ্য উঠে এসেছে তাঁরা সবাই এথনিক আর্টিস্ট ফোরামের সঙ্গে যুক্ত। ফোরামটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শিল্পী কনক চাঁপা চাকমা বলেন, ‘এথনিক আর্টিস্ট ফোরামের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর শিল্পীদের প্রতিভাকে বিকশিত করা। অনেক প্রতিভাবান শিল্পী সঠিক পর্যবেক্ষণ ও অনুপ্রেরণার অভাবে পিছিয়ে পড়ছেন, এমনকি হারিয়েও যাচ্ছেন। শিল্পচর্চায় তাঁদের সহযোগিতা করাই আমাদের কাজ। ফোরাম ২০১৯ সালের আগস্টে রাঙামাটিতে একটি আর্ট ক্যাম্প করে। সেখান থেকে বাছাই করে ৪৪ জন শিল্পীর ৬৫টি শিল্পকর্ম নিয়ে এই প্রদর্শনী। ’

অবিন্তা গ্যালারি অব ফাইন আর্টসের কিউরেটর সুলতান এম মাইনুদ্দিন বলেন, “শিল্প এমন এক ভাষা, যার কোনো ধরাবাঁধা সীমান্ত নেই। একই শিল্পকর্ম দেখার ভিন্নতার কারণে শিল্পসমঝদারদের কাছে ভিন্ন অর্থ নিয়ে হাজির হয়। শিল্পীরা আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরেছেন। ২০১৯ সালে অবিন্তা গ্যালারি অব ফাইন আর্টস এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের সৌজন্যে এথনিক আর্টিস্ট ফোরাম একটি আর্ট ক্যাম্পের আয়োজন করে। সেখান থেকেই বাছাইকৃত শিল্পকর্ম নিয়ে এই প্রদর্শনী। আমরা এর নাম দিয়েছি ‘পাহাড়ের চিত্রবুনন’। ”

সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গ্যালারি দর্শকদের জন্য খোলা থাকছে। প্রদর্শনী চলবে ৪ জুন পর্যন্ত।

 



সাতদিনের সেরা