kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

ঈশ্বরদী

ইউনিয়ন পরিষদে পিটুনি ঝোপের মধ্যে লাশ

চেয়ারম্যানের শাস্তি দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা সদরের বাস টার্মিনালসংলগ্ন ঝোপের মধ্য থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর বাবার দাবি, চোর সন্দেহে ছেলেকে সাঁড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কক্ষে আটকে পেটানো হয়। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদারসহ দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

নিহত রাব্বি হোসেন চঞ্চল (১৮) মাঝদিয়া পুরাতন রেললাইন এলাকার জাহিদুল ইসলাম ঘোরতের ছেলে।

বিজ্ঞাপন

জাহিদুল অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে চোর সন্দেহে গত শনিবার রাত ২টার দিকে ইলশেমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মোড়ে শিহাব ও ওহাবসহ কয়েকজন আটক করে। সেখানে এলাকাবাসী রাব্বিকে মারধর করে সাঁড়া ইউপি চেয়ারম্যানকে জানায়। চেয়ারম্যান চৌকিদার আজগর আলীকে পাঠিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চঞ্চলকে ইউনিয়ন পরিষদে নেন। খবর পেয়ে জাহিদুল ভাই ও ভাতিজাদের নিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে যান। ক্ষমা চেয়ে ছেলেকে তাঁর কাছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তখন চেয়ারম্যান বলেন, ‘তোমার হাতে রাব্বিকে দেওয়া যাবে না। সকালে থানায় পাঠানো হবে। ’ এরপর তাঁদের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানের নির্দেশে ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে ছেলেকে বেদম মারধর করা হয়। নিরুপায় হয়ে তাঁরা বাড়ি চলে আসেন। গতকাল রবিবার সকালে ছেলের খোঁজে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁকে থানায় পাঠানো হয়নি। এরপর চৌকিদার আজগরসহ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁরা জানান, রাব্বিকে হাসপাতালে চিকিত্সা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি হেঁটে বাড়ি চলে গেছেন। কিন্তু ছেলেকে কোথাও না পেয়ে নানা স্থানে খুঁজতে থাকেন। দুপুর ১টার দিকে শহরের রেলগেট ও বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ঝোপের মধ্যে ছেলে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন বলে লোকমুখে শুনতে পান। তখন সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।

সাঁড়া ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদার বলেন, ‘একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাকে পরিষদের কক্ষে এনে মারধর করা হয়নি। ’

ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘চোর সন্দেহে এলাকাবাসী রাব্বিকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এরপর হাসপাতালে এনে চিকিত্সা দিয়ে বাড়িতে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। তখন তারা মরদেহ বাস টার্মিনালের পাশে রেখে পালিয়ে যায়। ’



সাতদিনের সেরা