kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

কুয়াকাটা সৈকত

‘বাচ্চা দিতে এসে’ মারা গেল ডলফিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল ও কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘বাচ্চা দিতে এসে’ মারা গেল ডলফিন

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসা মৃত ডলফিন। ছবি : কালের কণ্ঠ

পিটুয়াখালীর কুয়াকাটার লেম্পুচরের আন্ধারমানিক নদের মোহনাসংলগ্ন সমুদ্রসৈকতের অল্প গভীরতার পানিতে গতকাল রবিবার সকালে একটি ডলফিনকে ছটফট করতে দেখে স্থানীয়রা। কিছুক্ষণ পর ডলফিনটি বালুচরে আটকে যায়। প্রাণীটিকে গভীর সমুদ্রে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তারা। তবে চেষ্টা বৃথা যায়।

বিজ্ঞাপন

প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে সেখানে মারা যায় ইরাবতী প্রজাতির ডলফিনটি। এর আগে চলতি বছর ১০টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসে।

ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার কালের কণ্ঠকে জানান, গতকাল আট ফুট দৈর্ঘ্যের ডলফিনটি বাচ্চা প্রসবের জন্য এসে মারা গিয়ে থাকতে পারে। ডলফিনটির শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিশেষ করে পেটের নিচের দিকে বড় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, ডলফিনটি আলীপুর মত্স্যঘাটে আনা হয়েছে। সেটির পেটে বাচ্চা রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীরা

কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একের পর এক মৃত্যুর মুখে পড়ছে বা মৃত অবস্থায় ভেসে আসছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী। সর্বশেষ গতকাল কুয়াকাটা সৈকতে মারা গেল আঘাতপ্রাপ্ত একটি মা ডলফিন। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবেশবিদ ও সামুদ্রিক প্রাণী বিশেষজ্ঞরা। ইউএসএআইডির অর্থায়নে পরিচালিত আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ফিশের অধীনে ইকোফিশ-২ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত কুয়াকাটা সৈকতে ১০টি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। এর মধ্যে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে একটি করে, মার্চ ও এপ্রিলে দুটি করে এবং মে মাসে চারটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে। ২০২১ সালে মোট ১৮টি মৃত ডলফিন সৈকতে ভেসে আসে।

এ ছাড়া এ বছর কুয়াকাটা সৈকতে বিরল প্রজাতির ১১টি কচ্ছপ ভেসে আসে। এর মধ্যে এপ্রিল মাসে চারটি মৃত ও একটি জীবিত, মার্চে চারটি মৃত এবং চলতি মে মাসে একটি মৃত ও একটি জীবিত কচ্ছপ রয়েছে। জীবিত কচ্ছপ দুটিকে প্রাথমিক চিকিত্সা শেষে সাগরে অবমুক্ত করা হয়।

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার কালের কণ্ঠকে বলেন, দিন দিন সামুদ্রিক নিরীহ প্রাণী ডলফিনের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এতে সামুদ্রিক পরিবেশের চরম ক্ষতি হচ্ছে। ডলফিনের মৃত্যুর সঠিক কারণ খুঁজে বের করে জীববৈচিত্র্য রক্ষা জরুরি হয়ে পড়েছে।

জীববৈচিত্র্য গবেষক সাগরিকা স্মৃতি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কুয়াকাটা সৈকতে এর আগের বছরগুলোতেও মৃত ডলফিন ভেসে এসেছিল। আমরা সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে আসছি, এসব সামুদ্রিক প্রাণী কেন মারা যাচ্ছে, তার কারণ খুঁজে বের করতে উদ্যোগ নেওয়া দরকার। কিন্তু কোনো ফল আসছে না। জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এবং সাগর ও নদীতে পলিথিন না ফেলে নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণ করে পুড়িয়ে ফেলতে সংশ্লিষ্টদের বললেও কোনো কাজে আসছে না। অদূর ভবিষ্যতে সামুদ্রিক প্রাণী ও পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় সরকার ভূমিকা রাখবে বলে আমার ধারণা। ’



সাতদিনের সেরা