kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের জেরে ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তিতেই গণকমিশন

বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘গণকমিশনের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ মন্তব্য পর্যালোচনা করে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশনের পক্ষে বলা হয়েছে, ‘আমরা কখনো দাবি করিনি আমাদের গণকমিশন দেশের আইনের মাধ্যমে গঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান। আমাদের নামেই বলা হয়েছে এটি ‘গণকমিশন’, সরকার কর্তৃক গঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। এ ধরনের কমিশন নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে অতীতে বহুবার গঠন করা হয়েছে।

আরো বলা হয়েছে, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক গণকমিশন বা গণ-আদালত বহু দেশে গঠিত হয়েছে—সমস্যা নিরসনে জনমত সংগঠনের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকে এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য।

বিজ্ঞাপন

আমাদের গণকমিশনের আইনি ভিত্তি না থাকলেও এর রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তি অবশ্যই আছে। ’

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং জাতীয় সংসদের আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক ককাসের যৌথ উদ্যোগে গঠিত গণকমিশনের গতকাল শনিবারের সভায় গৃহীত প্রস্তাবে এ কথা বলা হয়।

রাজধানীর মহাখালীতে অস্থায়ী কার্যালয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন সংসদ  সদস্য রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, শিক্ষাবিদ কলাম লেখক মমতাজ লতিফ, লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মাদ আলী শিকদার, ইসলামী চিন্তাবিদ হাফেজ মাওলানা জিয়াউল হাসান, কমিশনের সদস্যসচিব ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, কমিশনের সচিবালয়ের সমন্বয়কারী কাজী মুকুল, সদস্য অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবু, ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী, সাংবাদিক আবু সালেহ রনি, মাওলানা হাসান রফিক, সাংবাদিক সৈয়দ নূর-ই-আলম, সমাজকর্মী শেখ আলী শাহনেওয়াজ, মো. সাইফউদ্দিন রুবেল, তপন দাস ও  শিমন বাস্কে ও সাংবাদিক সাইফ রায়হান।

সভায় গণকমিশনের সদ্য প্রকাশিত শ্বেতপত্র সম্পর্কে জাতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় প্রয়াত ভাষাসংগ্রামী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে গৃহীত এক প্রস্তাবে বলা হয়, ‘যে মহান বাঙালি বুদ্ধিজীবীর মৃত্যুতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, বরেণ্য রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, তাঁর সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি যেভাবে বিষোদগার করছে, আমরা এর কঠোর নিন্দা করি এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই—অবিলম্বে এসব মৌলবাদী দুর্বৃত্তদের বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিদ্বেষী বক্তব্য প্রচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি বিদ্বেষ প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ’

সভার আরেক প্রস্তাবে  বলা হয়—‘বাংলাদেশে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ২০০০ দিন’ শীর্ষক শ্বেতপত্র প্রকাশের জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি কমিশনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে যেমন অভিনন্দন জানিয়েছেন, এর বিপরীতে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম এবং সমচরিত্রের সংগঠনগুলো এই শ্বেতপত্রকে ইসলামবিরোধী আখ্যা দিয়ে কমিশনের সদস্যদের প্রতি অশ্লীল ও কদর্য ভাষায় বিষোদগার করছে।

 



সাতদিনের সেরা