kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

যুক্তরাষ্ট্রে সংসদীয় প্রতিনিধিরা

বড় পরিসরে দুই দেশের সম্পৃক্ততা প্রত্যাশা

♦ সরকারের প্রচেষ্টাকে অন্য সব রাজনৈতিক দলের সমর্থন করা প্রয়োজন
♦ বাংলাদেশের টিকা বিতরণব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম সেরা বললেন মার্কিন কর্মকর্তা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২১ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো জোরদার করতে বৃহত্তর সম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়েছে জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রতিনিধিদল। যুক্তরাষ্ট্র সফরের দ্বিতীয় দিন ওয়াশিংটন সময় গত বৃহস্পতিবার ক্যাপিটল হিলে কংগ্রেসম্যান ডোয়াইট ইভান্স, পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লুর সঙ্গে বৈঠকে প্রতিনিধিদল সম্পর্ক আরো জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করে।

প্রতিনিধিদলটি ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল টুইনিংয়ের নেতৃত্বে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেয়। সংসদীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান।

বিজ্ঞাপন

দলের অন্য সদস্যরা হলেন নুরুল ইসলাম নাহিদ, নাহিম রাজ্জাক ও কাজী নাবিল আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম সহিদুল ইসলামসহ দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আইআরআইয়ের সঙ্গে আলোচনায় সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেন, বাংলাদেশ সরকার ২০২৪ সালের শুরুর দিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক সাধারণ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তারা উল্লেখ করেন, সরকারের প্রচেষ্টাকে অন্য সব রাজনৈতিক দলের সমর্থন করা প্রয়োজন। কারণ শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের সবার ভূমিকা আছে। প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য আইআরআইয়ের সমর্থনকে স্বাগত জানায়।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু কভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের ব্যবস্থাপনার অত্যন্ত প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের টিকা বিতরণব্যবস্থাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা বলে তিনি অভিহিত করেন।

ডোনাল্ড লু বলেন, সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কভিড-১৯ সহযোগিতাকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখেছেন। উভয় পক্ষ আইটি এবং আইসিটি খাতে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে। তারা সিলিকন ভ্যালি ও বাংলাদেশ হাই-টেক পার্কের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহের কথাও বলেছে।

সফররত প্রতিনিধিদল বঙ্গবন্ধুর ঘাতক রাশেদ চৌধুরীকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে বাইডেন প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে। তারা র‌্যাব ও এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও তুলে ধরে। প্রতিনিধিদলের নেতা ফারুক খান মানুষে মানুষে সম্পর্ক এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নত করতে ঢাকা-নিউ ইয়র্ক সরাসরি বিমানের ফ্লাইট আবার চালু করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

শ্রম অধিকারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা, অবকাঠামো প্রকল্পে বৃহত্তর বিনিয়োগের জন্য ‘ইউএস ডিএফসি’ অর্থায়নে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের উন্নয়নে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ এবং চলমান নিরাপত্তা সহযোগিতাও আলোচনায় এসেছে।

মার্কিন কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ডোয়াইট ইভান্স ফিলাডেলফিয়ায় তাঁর নির্বাচনী এলাকায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। ২০১৯ সালের অক্টোবরে তাঁর বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে ইভান্স আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের যুক্তরাষ্ট্র সফর দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদার করবে। ওই বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরো বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা