kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চট্টগ্রাম

বিচারের বাইরেই থাকছেন অনলাইনের জঙ্গিরা

♦ জঙ্গি হামলার ঘটনায় বিচারের মুখোমুখি না হওয়ায় সাজাও পাচ্ছেন না গডফাদাররা
♦ ইন্টারনেটের অপ্রচলিত অ্যাপস ব্যবহার করে মাঠের জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন ডন

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

২১ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জঙ্গি হামলার ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিরা বিচারের মুখোমুখি হলেও অন্তর্জালের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা গডফাদাররা বিচারের বাইরে থাকছেন। তাঁরা গ্রেপ্তার এড়িয়ে নিজেদের রক্ষা করতে সমর্থ হচ্ছেন। বিচারের মুখোমুখি না হওয়ায় সাজাও পাচ্ছেন না।

২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গিবাদের ঘটনায় মামলার বিচারে দেখা গেছে, মাঠ পর্যায়ে গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গির সাজা হয়েছে বা তাঁরা বিচারাধীন মামলায় হাজতবাস করছেন।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু তাঁদের গডফাদারদের অন্তর্জাল ভেদ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করতে পারেনি। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার জঙ্গিবাদের একটি মামলায় এক আসামিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় দণ্ডিত আসামির গডফাদার ‘ডন’ বিচারের মুখোমুখি হননি। একইভাবে ২০১৫ সালে গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গি এরশাদ তাঁর জবানবন্দিতে জঙ্গিবাদের হোতা হিসেবে ডা. নজরুলের নাম প্রকাশ করলেও তিনি কোনো মামলায় বিচারের মুখোমুখি হননি। গ্রেপ্তারও হননি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নজরুল কিংবা ডন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানে না।

২০১৫ সালে গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গি এরশাদ হোসেন থেকে শুরু করে ২০১৮ সালে গ্রেপ্তারকৃত আশফাকুর রহমান ও রাকিবুল হাসান ঘুরে-ফিরে দুজন ব্যক্তির নামই বেশি উচ্চারণ করেছেন। এই দুজনের মাধ্যমেই জঙ্গিবাদে জড়িয়েছেন তাঁরা। দুজনের একজন ডা. নজরুল ইসলাম এবং অন্যজন ডন। তাঁদের মধ্যে ডনের বাস অন্তর্জালে। ইন্টারনেটের অপ্রচলিত অ্যাপস ব্যবহার করে মাঠের জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন ডন। আর ডা. নজরুল ইসলাম উত্তরবঙ্গে বসে চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণের জন্য জঙ্গি পাঠাতেন।

চার বছরে গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক জঙ্গির জবানবন্দির তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া জেলাসহ উত্তরবঙ্গ থেকে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) জন্য জঙ্গি সদস্য সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাঠাতেন ডা. নজরুল। তাঁর পাঠানো সদস্যদের চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো ফারদিন-জাবেদের তত্ত্বাবধানে। নজরুলের অনুসারী ফারদিন-জাবেদকে পরে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়। কিন্তু অধরা থাকেন ডা. নজরুল। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে জেএমবি সদস্য এরশাদ, পরে ফারদিন, ফুয়াদ, জাবেদ, বুলবুলসহ অন্যদের জঙ্গিবাদে জড়ানোর অভিযোগ ছিল। তাঁকে ধরতে নগর পুলিশের বিশেষ উদ্যোগও দেখা যায়নি।

২০১৮ সালে সদরঘাট থানা হামলার জন্য পরিকল্পনা করে একটি বাসায় গ্রেনেডসহ অবস্থান নিয়েছিলেন আশফাক ও রাকিবুল। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ দুজনের জবানবন্দিতে এসেছিল ডনের নাম। তবে তাঁর পুরো পরিচয় বের করতে পারেনি পুলিশ।

তবে চট্টগ্রাম সিটিটিসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ডা. নজরুলের কোনো কর্মকাণ্ডও পরিলক্ষিত হয় না। সেই কারণে ধারণা করা হচ্ছে, ডা. নজরুল মারা গেছেন। জঙ্গিদের একজনের হাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। ধৃত জঙ্গি এরশাদই এ তথ্য প্রকাশ করেছিল। ’

সদরঘাট থানা হামলার পরিকল্পনাকারী ডনকে শনাক্ত না করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিটিটিসি ইউনিটের পরিদর্শক আফতাব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই আসামির সঙ্গে কথা বলে ডন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের মধ্যে শুধু ইন্টারনেটের অপ্রচলিত অ্যাপসে যোগাযোগ হতো। ডন কখনোই ধৃত আসামিদের নিজের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত বলেননি। এই কারণে ডনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাই তাঁকে অভিযোগপত্রভুক্ত করা যায়নি। ’

ডা. নজরুল ও ডনকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটিটিসি ইউনিটের উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জঙ্গি নেতারা ছদ্মনাম ব্যবহার করেন। এই কারণে তাঁদের শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ’ তিনি বলেন, ‘ডন নামটির আড়ালে প্রকৃত ব্যক্তি কে—সেটা শনাক্ত করা গেলেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব। কিন্তু ডনকে শনাক্ত করা যায়নি। ’ তবে তিনি বলেন, ‘সন্দেহভাজন অর্থ জোগানদাতাদের নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। ’

 



সাতদিনের সেরা