kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

মহাসড়কে ধান শুকানোয় বাড়ছে দুর্ঘটনা

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

২১ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহাসড়কে ধান শুকানোয় বাড়ছে দুর্ঘটনা

চৌগাছা-যশোর সড়কে ফুকো মেশিন দিয়ে ধান মাড়াই করে রাস্তায়ই খড় শুকাচ্ছেন কৃষক। ছবি : কালের কণ্ঠ

ধান কাটার এমন মৌসুমে নিয়মিতই ধান ও খড় শুকানোর জায়গার সংকট পড়ে। আবার অনেক জায়গায় নিচু জমিতে বর্ষার পানি চলে আসা শুরু হয়। ফলে ধান ও খড় শুকানোর জন্য অনেক অঞ্চলে কৃষকরা বেছে নেন উঁচু আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়ককে।

গত শনিবার গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়।

বিজ্ঞাপন

এর পরও এখন গোপালগঞ্জের মহাসড়কে চলছে খড় শুকানো কাজ। প্রশাসনের কোনো নির্দেশনা না মেনে গ্রামের মানুষ সড়কের পাশের জায়গায় ধান শুকিয়ে যাচ্ছে। গতকাল বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের হরিদাসপুর থেকে কাশিয়ানীর পোনা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার রাস্তার পোনা, চাপতা, গোপালপুর, ফুকরা, গোপাীনাথপুর, চন্দ্রদিঘলীয়া, বিজয়পাশা নামক স্থানে স্থানীয়রা ধান ও খড় শুকাচ্ছে।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ঘোনাপাড়া হাইওয়ে থানার পরিদর্শক আবু নাঈম মো. মোফাজ্জেল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা গেলে মানুষজন ধান সরিয়ে নেয় আবার চলে এলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ’

জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, দুর্ঘটনার পরে সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের নিয়ে সভা করা হয়েছে। সেখানে শুধু মহাসড়ক নয়, আঞ্চলিক সড়কেও খড়, ধান বা অন্য কোনো মালামাল রাখতে পারবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ এলাকার প্রায় ৭০ কিলোমিটার মহাসড়কের দুই পাশে বর্তমানে মহা ধুমধামে চলছে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ। এতে সরু হয়ে আসছে সড়ক। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. এমদাদ হোসেন সেখ জানান, পাঁচ লাখ তিন হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়। চলতি বছর ২২ লাখ সাত হাজার ১৩২ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এই ধান শুকানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বইলর, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মোড়, চেয়ারম্যান বাড়ি মোড় থেকে রাগামারা বাজার পর্যন্ত কৃষকরা চার লেন মহাসড়কের দুই পাশে অর্ধেক অংশ বন্ধ করে ধান ও খড় মাড়াই করছেন। এতে করে সড়কে যান চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম মনির পাঠান বলেন, মানুষ সচেতন না হলে সড়কে ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে না। মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। সড়ক-মহাসড়ক দখল করে অবৈধভাবে কিছুই করা যাবে না। এতে করে যান চলাচলে সমস্যা হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। (প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠের স্থানীয় প্রতিনিধিরা)

 



সাতদিনের সেরা