kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

সাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা

পেশা বদলাতে চান জেলেরা

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

২১ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাগরে মাছ ধরার ওপর বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা। বুধবার বিকেল থেকেই সাগর থেকে নির্দিষ্ট মৎস্যবন্দরে ফিরতে শুরু করেন জেলেরা। এ বছর কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরতে না পেরে অনেক জেলে পেশা বদলের চিন্তা করছেন। কেউ কেউ ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।

বিজ্ঞাপন

 

দক্ষিণঞ্চলের অন্যতম বড় মৎস্যবন্দর পিরোজপুরের পাড়েরহাটসহ জেলার বিভিন্ন মৎস্যবন্দরে নোঙর করেছে কয়েক শ মাছ ধরার ট্রলার। জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্দরে নোঙর করেছে শত শত ট্রলার। নিষেধাজ্ঞার এই সময়টা এসব ট্রলারের অনেকে তীরে ছেঁড়া জাল তুলছেন। কেউবা আবার ট্রলার মেরামতের জন্য ডকে তুলেছেন। পাড়েরহাট আড়ত ঘাটে লম্বা করে জাল সাজাচ্ছেন সেলাই করার জন্য। তীরে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে জেলেদের অনেকে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এ বছর কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা না পড়ায় অনেক জেলেই পেশা পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন। আবার নিষেধাজ্ঞাকালে সরকার যে চাল বিতরণ করে থাকে তা নিয়েও অভিযোগের শেষ নেই জেলেদের। পিরোজপুরে নিবন্ধিত মোট জেলের সংখ্যা ২৫ হাজার ৪০০। এর মধ্যে সাগরের জেলে পাঁচ হাজার ৩৯৩ জন।

১৭ বছর ধরে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরেন পিরোজপুর পাড়েরহাট গ্রামের জেলে শহিদুল ইসলাম (৩৮)। তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে মোট ছয়জনের সংসার। তিনি বলেন, ‘সাগরে মাছ ধরে যা আয় হয় তা দিয়ে চলা যায় মাত্র কয়েক মাস। তার ওপর বছরে অবরোধ বা নিষেধাজ্ঞা থাকে তিন-চার মাস। সাগরে সব সময় মাছ পাওয়া যায় না। সব দিক হিসাব করলে আমাদের কাজ থাকে ১২ মাসের মধ্যে ছয় মাস। বাকি ছয় মাস চলতে হয় ধারদেনা করে। ঠিকমতো ছেলেমেয়ের পড়াশোনা করাতে পারছি না। ’

একই এলাকার আরেক জেলে মো. সুমন বলেন, ‘সরকার বলে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় নাকি জেলেদের চাল দেয়। সত্যি বলতে এই চালগুলো পায় স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের আত্মীয়-স্বজনরা। আমরা যাঁরা সাগরের প্রকৃত জেলে তাঁদের নামে চাল বরাদ্দ হয় ঠিকই, কিন্তু সেটা চলে যায় সমাজের প্রতিষ্ঠিত মানুষের ঘরে। ’

পিরোজপুর জেলে কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. ইলিয়াস আকন বলেন, মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতি সুরক্ষায় জেলেদের পেশা পরিবর্তন রোধে খাদ্য সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধিসহ আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছে মৎস্যজীবীরা ও তাঁদের সংগঠন জেলে কল্যাণ সমিতি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাগরের জলসীমায় যে সময় অবরোধ বা নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার, ঠিক একই সময় ভারতের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়। ফলে বাংলাদেশের জেলেরা নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরতে না পারলেও ভারতের জেলেরা ঠিকই মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে অবরোধ বা নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের জেলেরা।

পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল বারী জানান, সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিবন্ধিত জেলেদের প্রত্যেককে দুই ধাপে মোট ৮৬ কেজি করে চাল দিয়ে সাহায্য করবে সরকার।



সাতদিনের সেরা