kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

সিলেট নগর প্লাবিত

সমীক্ষায় আটকে আছে সুরমা খনন

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট    

২০ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুরমা নদীর পানি উপচে এখন সিলেট নগরের অলিগলিতে। কাজীরবাজার এলাকায় নদী থেকে নৌকা সরাসরি সড়কে উঠে আসছে, এমন দৃশ্যও দেখা গেল গত বুধবার।

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নগরের এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খনন না হওয়ায় সুরমা ভরাট হয়ে অল্পতেই পানি ঢুকে পড়ছে নগরে। গত ১০ বছরে অন্তত চারটি সমীক্ষা হলেও খননের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

এখনো একটি সমীক্ষা চলমান।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিলেট মহানগরের ২৭টি ওয়ার্ডের তিনটি পড়েছে সুরমার দক্ষিণে, অন্যগুলো উত্তরে। বৃষ্টি কিংবা উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি উপচে নগরে ঢুকে তুলনামূলক নিচু এলাকা প্লাবিত করে। সিলেট নগরের অভিজাত এলাকা খ্যাত শাহজালাল উপশহরের বাসিন্দারা এতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। এ ছাড়া নগরের নিম্নাঞ্চলের মধ্যে কাজীরবাজার, শেখঘাট, কাজলশাহ, তালতলা, কালীঘাট, মেন্দিবাগ, উপশহর, কদমতলী, কুশিঘাট, ছড়ারপার, তেরো রতন, চালিবন্দর, সাদারপাড়া, সাদাটিকর, নয়াগাঁও, সাদিপুর, মণিপুরী রাজবাড়ি, মাছিমপুরের মতো নিচু এলাকাগুলোর মানুষ পানিবন্দি হয়। এবারও নগরের উপশহরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় কোমরসমান পানি উঠেছে।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর ও পরিবেশ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক মুশতাক আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিলেট নগরের এমন পরিস্থিতির অন্যতম কারণ অবশ্যই নদী ভরাট হয়ে যাওয়া। ’ নদী খননের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘খনন না হওয়ায় সুরমা অনেক ভরাট হয়ে গেছে। পানি বের হওয়ার পথ বেশি নেই। একটিই পথ হলো সুরমা-কুশিয়ারা এক হয়ে যে অংশটি কালনী হয়ে ভৈরবে গিয়ে মেঘনা নাম নিয়েছে। সেই জায়গাটি আমার কাছে মনে হয় আরো খনন করা জরুরি। পাশাপাশি জকিগঞ্জের অমলসিদের কাছে যেখানে নদী বাঁক নিয়েছে, সেখানে পলি জমেছে। সেখানেও খনন করা দরকার। ’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একটি সূত্রে জানা গেছে, একসময় বরাক হয়ে আসা পানির ৬০ শতাংশ কুশিয়ারায় এবং বাকি ৪০ শতাংশ সুরমা নদী দিয়ে প্রবাহিত হতো। কিন্তু উৎসস্থল অমলসিদ থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত সুরমার যাত্রাপথে স্থানে স্থানে চর জেগে ওঠায় এখন ৮০ শতাংশ পানিই যাচ্ছে কুশিয়ারায়। অন্যদিকে ২০ শতাংশ পানি নিয়ে সুরমা ক্রমেই রূপ নিচ্ছে মরা নদীতে। সুরমা ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষকালে ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢল নামলে নদী উপচে নগরের নিচু এলাকাসহ বিভিন্ন উপজেলায় পানি ঢুকে পড়ে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, নদী খননের যে বিষয় সেটা পুরোটাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ। সুরমা নদী খনন জরুরি হয়ে পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আজ (বুধবার) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। ’ সিটি করপোরেশনও এই বিষয়ে তিন বছর আগে একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল বলে জানান তিনি।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, সুরমার খনন বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে ‘সিলেট জেলার নদী অববাহিকায় পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সিলেটে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী নদীভাঙন, নদী ড্রেজিং ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন’ নামে একটি সমীক্ষা চলমান রয়েছে। এর আগে ২০২১ ও ২০১৯ সালে আরো দুটি সমীক্ষা হয়েছে। ২০১৭ সালের একটি ধারণাপত্র ও ২০১২ সালের সুরমা খননের একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠায় পাউবো।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘নগরে সুরমার পানি ঢোকার কারণ নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে আছে প্লাস্টিক আর পলিথিনে। তা না হলে এখন পানির যে তোড় তাতে পলি সরে যাওয়ার কথা। ’ তিনি নদী খননের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘বিশেষ করে সিলেট নগর এলাকায় সুরমা নদী ভরাট হয়েছে বেশি। ’

এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সুরমা নদীর খননকাজ বিষয়ে একটি সমীক্ষা চলমান। এটি শেষ হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ’



সাতদিনের সেরা