kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

মানিকগঞ্জ শহরের খাল খনন

২৫ কোটি টাকা গচ্চার প্রকল্প

♦ দৈর্ঘ্য প্রায় সোয়া ছয় কিলোমিটার
♦ আগেরবার ১৮ কোটি টাকা গচ্চা
♦ উৎসমুখ খনন না করায় পানি থাকে না
♦ এবারও একই ধরনের প্রকল্প

সাব্বিরুল ইসলাম সাবু, মানিকগঞ্জ   

২০ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উৎসমুখ খনন না করে আগেরবার ১৮ কোটি টাকা গচ্চা গেছে। এবারও ২৫ কোটি টাকা গচ্চা দেওয়ার জন্য আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে মানিকগঞ্জ পৌরসভা। শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত খাল খনন কর্মসূচির সুফল নিয়ে এমন সংশয়, সন্দেহ, প্রশ্ন নাগরিকদের।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার বান্দুটিয়া থেকে শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বকজুড়ি পর্যন্ত খালের দৈর্ঘ্য প্রায় সোয়া ছয় কিলোমিটার।

বিজ্ঞাপন

বান্দুটিয়া এবং বকজুড়িতে খালের উৎসমুখে দুটি জলকপাট দিয়ে কালীগঙ্গা নদী থেকে খালে পানি ঢোকে। কিন্তু  জলকপাটের কাছে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমের এক থেকে দেড় মাস পানি খালে ঢুকতে পারে। এ কারণে প্রায় সারা বছর খালটি পানিশূন্য থাকে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত খাল খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের পেছনে ব্যয় হয় প্রায় ১৮ কোটি টাকা। সে সময়েও খালের উৎসমুখ খনন করা হয়নি। ফলে খনন করেও সারা বছর পানিপ্রবাহ রাখা সম্ভব হয়নি। উল্টো বর্ষা মৌসুমের পানির সঙ্গে পলি ঢুকে কিছুদিনের মধ্যে খালটি ভরাট হয়ে যায়। অন্যদিকে নিম্নমানের কাজের কারণে কিছুদিনের মধ্যে খালের বাঁধাইকরা পারের সিসি ব্লক ধসে পড়ে। ভেঙে যায় হাঁটাপথ। পানিপ্রবাহ না থাকায় শহরের বাসাবাড়ি, হোটেল রেস্তোরাঁর বর্জ্যে কার্যত ভাগাড়ে পরিণত হয় খালটি। ১০ বছরের মাথায় খালটি আবার খনন করার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে গত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিটি রিজিয়ন ডেভেলপমেন্ট (সিআরডিপি) প্রকল্পের আওতায় খাল খনন ও সৌন্দর্যবন্ধনে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ১০.৬২ শতাংশ কম মূল্যে যৌথভাবে এই কাজের ঠিকাদারি পায় মেসার্স এপেক্স এন্টারপ্রাইজ ও কামরুল ব্রাদার্স। প্রায় সোয়া ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি খনন ছাড়াও তিনটি সেতু নির্মাণ করা হবে। চেইনেজ ১৬৫০ থেকে ৩০৬৫ পর্যন্ত সিসি ব্লক দিয়ে খালের পার বাঁধাইসহ গড়ে পাঁচ মিটার প্রশস্ত হাঁটাপথ। হবে বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্নভাবে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। কাজ সমাপ্তির সময়সীমা ধরা হয়েছে এক বছর। কিন্তু এবারও খালের উৎসমুখে নদী খনন করা হবে না।

উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ মহকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৯ সালে। শহরের ঠিক মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খালটিকে ঘিরে জেলা সদর গড়ে ওঠে। যে কারণে খালটি যেমন এই শহরের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত, তেমনি পানি নিষ্কাশনের জন্য অপরিহার্য। খালটিকে বলা হয় শহরের প্রাণ।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘উৎসমুখ খনন না করলে সারা বছর খালে পানি থাকবে না। ’ তবে প্রকল্পে কেন উৎসমুখ খনন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ রুমানা নাজনিন বলেন, ‘সারা বছর খালে পানিপ্রবাহ রাখতে হলে পাম্পের মাধ্যমে নদী থেকে পানি আনতে হবে। কালীগঙ্গা নদী যেভাবে ভরাট হয়ে গেছে, তাতে খালের উৎসমুখে খনন করেও কাজ হবে না। ’

মানিকগঞ্জের পরিবেশ আন্দোলন কর্মী খোন্দকার খালেকুজ্জামান বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আগেরবার ১৮ কোটি টাকা গচ্চা গেছে। সারা বছর পানিপ্রবাহ থাকে না। এবারও সারা বছর পানিপ্রবাহের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। আমরা চাই, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ঐতিহ্যের খালটিকে বাঁচিয়ে রাখা হোক। ’



সাতদিনের সেরা