kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

বড়লেখার দুই ভাইসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বড়লেখার দুই ভাইসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখার দুই সহোদরসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন আব্দুল মান্নান ওরফে মনাই, আব্দুল আজিজ ওরফে হাবুল ও তাঁর ভাই আব্দুল মতিন।

বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বৃহস্পতিবার এই দণ্ডাদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদার ও কে এম হাফিজুল আলম।

বিজ্ঞাপন

আব্দুল মান্নান ও আব্দুল আজিজের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়। আব্দুল মতিন পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল যে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করেছিলেন, তার সব কটিই প্রমাণিত হয়েছে। পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে ১, ২ ও ৫ নম্বর অভিযোগে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে আসামিদের ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি। আব্দুল মান্নানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম সারোয়ার হোসেন। আব্দুল আজিজের পক্ষে শুনানি করেন আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। পলাতক আব্দুল মতিনের পক্ষেও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে আব্দুস সাত্তার পালোয়ান শুনানি করেন।

রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রসিকিউটর ইয়াসমিন খান বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে সব কটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে তিন আসামিকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। ’

আসামিদের আইনজীবী এম সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড ট্রাইব্যুনালের রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ রায়ে আমার মক্কেল ন্যায়বিচার পাননি, সংক্ষুব্ধ হয়েছি। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন আমার মক্কেল। আশা করি আপিলের রায়ে তিনি ন্যায় বিচার পাবেন। ’

আব্দুল আজিজের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান পলাতক আব্দুল মতিনের বিষয়ে বলেন, আইন-আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আত্মসমর্পণ করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজিজ ও মতিন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভারতে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে পালিয়ে বড়লেখায় এসে তাঁরা হানাদার বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। তখন তাঁদের সঙ্গে মান্নানও যোগ দেন।

২০১৬ সালের ১ মার্চ গ্রেপ্তার হওয়ার আগে আব্দুল আজিজ বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। আর পলাতক মতিন জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করতেন। আসামি মান্নান ওরফে মনাই ১৯৭১ সালে জামায়াতের তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের রাজনীতি করতেন বলে জানায় তদন্ত সংস্থা। মুক্তিযুদ্ধের সময় মান্নান বড়লেখা থানা শান্তি কমিটির সদস্য হন এবং রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। ২০১৬ সালের ১ মার্চ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন।

মামলার বৃত্তান্ত

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর আব্দুল মান্নান, আব্দুল আজিজ ও তাঁর ভাই আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে, যা শেষ হয় ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর। ওই বছর ১ মার্চ তিন আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিনই তাঁদের মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানার পুলিশ আব্দুল মান্নান ও আব্দুল আজিজকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পরের দিন ২ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।



সাতদিনের সেরা