kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

কলেরার টিকাদান পিছিয়ে গেছে

কাজী হাফিজ   

১৯ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কলেরার টিকাদান পিছিয়ে গেছে

ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের কলেরার টিকা খাওয়ানোর পরিকল্পনা পিছিয়ে গেছে। চলতি মাসের প্রথম দিকে রাজধানী ঢাকার পাঁচটি এলাকায় ২৩ লাখের কাছাকাছি মানুষকে কলেরা টিকা  দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। কিন্তু সেই পরিকল্পনা এ মাসে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, করোনাভাইরাসের টিকা কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে কলেরার টিকা আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে খাওয়ানো শুরু হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৭.৫ মিলিয়ন (৭৫ লাখ) টিকা দিতে চেয়েছিল। এর প্রায় অর্ধেক টিকা এরই মধ্যে পাওয়া গেছে। বাকি টিকা পাওয়া যাবে প্রথম ডোজের টিকা খাওয়ানোর পর।

এদিকে ডায়রিয়া ও কলেরা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। রাজধানীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআরবি) হাসপাতালের তথ্য অনুসারে, ঈদের সময় ও তার পরের কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলেও গত তিন-চার দিন রোগী বেড়েছে। বর্তমান সময়ে ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হলেও গত তিন-চার দিন প্রতি ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ শর বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। গত মার্চ-এপ্রিলে ডায়রিয়া প্রকোপ চরম অবস্থায় পৌঁছলে আইসিডিডিআরবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সেখানে ভর্তি রোগীদের ২৩ শতাংশই কলেরায় আক্রান্ত।

আইসিডিআরবির ডা. বাহরুল আলম গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠকে জানান, গত ১৫ মে তাঁদের হাসপাতালে ৫০৪ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়। ১৬ মে ভর্তি হয় ৫৪২ জন। ১৭ এপ্রিলে ছিল ৫০৯ জন। আর গতকাল ১৮ এপ্রিল রাত ৮টা  পর্যন্ত ২০ ঘণ্টায় ভর্তি হয় ৪৮৪ জন।

তিনি বলেন, রোগী ভর্তির এই সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। সবচেয়ে বেশি রোগী আসছে রাজধানীর কদমতলী এলাকা থেকে। এরপরই রয়েছে মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গুলশান, বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ী এলাকার। কয়েক দিন ধরে যে ধরনের গরম পড়ছে তাতে ডায়রিয়া রোগী আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশে ব্যাপকভাবে ডায়রিয়া ও কলেরা প্রকোপ চলাকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ঢাকার পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের কলেরা টিকা খাওয়ানোর  পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। বলা হয়,  যাত্রাবাড়ী, দক্ষিণখান, মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও সবুজবাগে মে মাসে প্রথম ডোজ দেওয়া হবে এবং জুনে দেওয়া হবে দ্বিতীয় ডোজ। এক বছর বয়স থেকে সব বয়সী মানুষ কলেরার টিকা পাবে। শুধু গর্ভবতী নারীরা পাবেন না।

গত ২৮ এপ্রিল সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ডাব্লিউএইচও আমাদের ৭.৫ মিলিয়ন (৭৫ লাখ) কলেরা টিকা দেবে। এই টিকার দুই ডোজ নিলে তিন বছর পর্যন্ত কলেরা বা ডায়রিয়া থেকে নিরাপদ থাকা যাবে। মে মাসের ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে দেশে এসব টিকা চলে আসবে। ’ 

ওই পরিকল্পনা অনুসারে এখনো কলেরার টিকা খাওয়ানোর কাজ শুরু হয়নি কেন—এ প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) প্রগ্রামের সঙ্গে সমন্বয় করার কারণে আমরা এখনো কলেরার টিকা খাওয়ানোর কাজ শুরু করতে পারিনি। ইপিআই প্রগ্রামের মাধ্যমে করোনা টিকাদান কর্মসূচি এখনো চলমান। কলেরা টিকা আর করোনা টিকা নেওয়ার মধ্যে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ ব্যবধান থাকতে হবে। হিসাব-নিকাশ করে দেখা গেছে, আমরা যদি কলেরা টিকা দিয়ে ফেলি তাহলে নিয়মিতভাবে করোনা টিকা দেওয়ার বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হবে। বিষয়টি সমন্বয়ের জন্য ইপিআই কলেরা টিকার সময় নির্ধারণ করে দেবে। আশা করছি জুনের প্রথম সপ্তাহের দিকে প্রথম ডোজের কলেরা টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হবে। ’



সাতদিনের সেরা