kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন

রাত ৮টায় দোকান বন্ধে সুফল কিভাবে?

জহিরুল ইসলাম   

১৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস নগরের যানজট নিরসন এবং পরিচ্ছন্নতাকাজের সুবিধার জন্য রাত ৮টার পর শপিং মল, মার্কেট ও দোকান খোলা না রাখার যে প্রস্তাব করেছেন সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে যানজট সমস্যার তেমন একটা সমাধান হবে না। এর আগে আরো কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত জরুরি। তবেই সেটি সুফল আনতে পারে।

দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আরো বলেছিলেন, রাত ৮টার পর শপিং মল, মার্কেট ও দোকান বন্ধ করা গেলে রাজধানীতে শৃঙ্খলা ফিরবে।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ীরা পরিবারকে দেওয়ার মতো সময়ও হাতে পাবেন।

মেয়রের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘ইউরোপে সন্ধ্যার পর বড় বড় শহর ছাড়া কোথাও কেনাবেচা হয় না। দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। বাংলাদেশে সন্ধ্যার পর দোকানপাট বন্ধ করলে যানজট কমবে কি না সেটি আলাদা কথা। শুরুতেই ভাবতে হবে বিষয়টি আমাদের লাইফস্টাইলের সঙ্গে যায় কি না। ’ তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় দোকানপাট সকালে বন্ধ রেখে দুপুরের পর খুলে রাত ১০টা পর্যন্ত চলতে পারে। তাহলে অফিস শেষ করে অনেকেই প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে পারবে। দোকানিরাও সকালবেলা পরিবারকে সময় দিতে পারবেন। আর রাত ৮টায় বন্ধ করতে হলে অনেক কিছু পরিবর্তন করার বিষয় রয়েছে। প্রধান যে প্রশ্নটি আসে, সেটি হচ্ছে তাহলে দোকান খুলবে কখন?’

আদিল মোহাম্মদ বলেন, ‘মোটকথা হচ্ছে, বর্তমান বাস্তবতায় রাত ৮টায় দোকান বন্ধ করলেও কোনো কাজ হবে বলে মনে হয় না। সেটি করতে গেলে শুরুতে স্কুলের সময়টা পরিবর্তন করতে হবে। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে স্কুল সকালে চলে। আর অফিস টাইম দেওয়া ১০টায়। শপিং মলগুলো ১টার পর খুলে থাকে। এভাবে করলে এই তিন শুরুর সময় আলাদা হয়ে গেল। আবার ৩টার ফেরত টাইমও আলাদা হবে। স্কুল, অফিস, মার্কেটের লোকজন আলাদা সময়ে সড়কে থাকবে। তাই যানজট কম হবে। ’

আর রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ও ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাত ৮টায় দোকান বন্ধ করা হবে কি না, সেটি আলোচনার বিষয়। তবে এর আগে শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক স্কুল বাস, সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিস বাস ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে স্কুল ও অফিসের সময় যদি আগে-পরে করা যায়, সেটি আরো কার্যকর হবে। ’



সাতদিনের সেরা