kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল

বছর না যেতেই ভেঙে ফেলা হলো আশ্রয়ণের ঘর

♦ নির্মাণের পরপরই ঘরগুলোতে ফাটল দেখা দেয়
♦ ঘর ভাঙার পর অন্যত্র থাকছে বসবাসকারীরা

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

১৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বছর না যেতেই ভেঙে ফেলা হলো আশ্রয়ণের ঘর

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার গৌরীশ্বর এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভাঙা ঘর। ছবি : কালের কণ্ঠ

বছর যেতে না যেতেই ভেঙে ফেলা হলো টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার গৌরীশ্বর এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের তিনটি ঘর। ঘরের মাটি দেবে যাওয়ায় ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ায় গত ১৩ মে ঘরগুলো ভাঙা হয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দেওয়া হয়েছিল এসব ঘর। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মাটি দেবে যাওয়ার কারণে কয়েকটি ঘরে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তাই পুনর্নির্মাণ করে দিতে ঘরগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে।

জানা যায়, ঘাটাইলে গত বছর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৭৬টি ঘর নির্মাণ করা হয়। এ সময় উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের গৌরীশ্বর মৌজার খাসজমিতে ভূমিহীনদের জন্য ৪৪টি ঘর নির্মাণ করে গৃহহীন পরিবারের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়। নির্মাণের পর পরই ঘরগুলোতে ফাটল দেখা দেয়। ওই সময়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘরগুলো মেরামত করে দেন। কিন্তু বছর পার না হতেই ওই সব ঘরে আবারও ফাটল দেখা দেয়। দেয়ালের পলেস্তার খসে পড়তে থাকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করার কারণে ঘরগুলেতে ফাটল দেখা দিয়েছিল। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও নির্মাণ ত্রুটি নয়, মাটির সমস্যার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

ভেঙে ফেলা ঘরের বাসিন্দা মাজেদা বেগম বলেন, ‘ঘর পেয়ে অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিছুদিন যেতে না যেতেই এতে ফাটল ধরে। ফলে ভয়ে ভয়ে রাত কাটাতাম। বিষয়টি জানালে একবার ঘর ঠিকও করে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তারপর আবারও বড় বড় ফাটল দেখা দেয়। দেয়ালের পলেস্তার খসে পড়তে থাকে। নতুন করে ঘর তৈরি করে দেবে বলে তিনটি ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঘর ভাঙার পর ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে পোলাপান, ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে আশ্রয়ণের অন্য ঘরের বারান্দায় থাকছি। ’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ‘ঘর নির্মাণকাজে ত্রুটি হয়নি। তিনটি ঘরের মাটি দেবে গিয়ে ফাটল দেখা দেওয়ায় এবং দেয়ালের পলেস্তার খসে যাওয়ায় ঘরগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এ কারণে ঘর তিনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনর্নির্মাণ করে সুবিধাভোগী পরিবারের মধ্যে ঘরগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হবে। ’



সাতদিনের সেরা