kalerkantho

সোমবার । ১৫ আগস্ট ২০২২ । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৬ মহররম ১৪৪৪

মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলার রায় কাল

২০১৬ সালের ১ মার্চ গ্রেপ্তার হওয়ার আগে আব্দুল আজিজ বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মৌলভীবাজারের বড়লেখায় তিনজনের বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারকের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ের দিন ঘোষণা করেন।

আসামিরা হচ্ছেন আব্দুল মান্নান ওরফে মনাই, আব্দুল আজিজ ওরফে হাবুল ও তাঁর ভাই আব্দুল মতিন। তাঁদের মধ্যে আব্দুল মতিন পলাতক; বাকি দুজন কারাগারে।

বিজ্ঞাপন

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মৌলভীবাজার এলাকায় অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, হত্যা ও গণহত্যার মতো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি। আসামিদের মধ্যে মনাইয়ের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম সারোয়ার হোসেন, হাবুলের পক্ষে ছিলেন আব্দুস সাত্তার পালোয়ান, পলাতক আব্দুল মতিনের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।

প্রসিকিউটর মুন্নি গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলাটি রায়ের জন্য রাখা হয়েছিল। আজ (মঙ্গলবার) ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার দিন ঠিক করে দিয়েছেন। আগামী ১৯ মে রায় ঘোষণা করা হবে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আমাদের প্রত্যাশা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে। ’

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজিজ ও মতিন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভারতে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর পালিয়ে বড়লেখায় এসে হানাদার বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। তখন তাঁদের সঙ্গে মান্নানও যোগ দেন।

২০১৬ সালের ১ মার্চ গ্রেপ্তার হওয়ার আগে আব্দুল আজিজ বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। আর পলাতক মতিন জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করতেন। মনাই ১৯৭১ সালে জামায়াতের তখনকার ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের রাজনীতি করতেন বলে দাবি তদন্ত সংস্থার। মুক্তিযুদ্ধের সময় মনাই বড়লেখা থানা শান্তিকমিটির সদস্য হন এবং রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন।

মামলার বৃত্তান্ত

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর মনাই, হাবুল ও মতিনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে, যা শেষ হয় দুই বছর পর ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর। ওই বছর ২৯ ফেব্রুয়ারি তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

এরপর ১ মার্চ মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানা পুলিশ মনাই ও হাবুলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পরের দিন ২ মার্চ তাঁদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। মতিন এখনো পলাতক। ২০১৬ সালের নভেম্বরে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করে। ২০১৮ সালের ১৫ মে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনাল বিচার শুরুর আদেশ দেন।



সাতদিনের সেরা